যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই রাশিয়া এক রাতে ইউক্রেনের ওপর ২৭০ ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দিবাগত রাতের এ হামলায় দেশটির পলতাভা অঞ্চলের তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয় এবং সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি চলতি মাসের সবচেয়ে বড় হামলা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টার বৈঠকের পরদিন এ হামলা হয়। ট্রাম্প-পুতিনের আলাস্কা বৈঠক এবং তার পরের ওয়াশিংটন বৈঠকের পর শান্তি আলোচনার গতি বাড়লেও যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই থামছে না।
মঙ্গলবার রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ১ হাজার সেনার মরদেহ ফেরত দিয়েছে। বিনিময়ে ইউক্রেন থেকে পেয়েছে মাত্র ১৯টি মরদেহ। ইস্তাম্বুলে গত মে, জুন ও জুলাইয়ে হওয়া তিন দফা শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে এ বিনিময় হয়। ইউক্রেন এ জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
শান্তি আলোচনায় মূল বিতর্ক জমে আছে ভূখণ্ড বিনিময় ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে। জেলেনস্কি বলছেন, ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও পশ্চিমা সহযোগীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ জরুরি। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ ৩০ দেশ কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং নামে একটি উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেনা পাঠাতে এখনও রাজি হয়নি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অনলাইনে এ জোটের বৈঠকও সভাপতিত্ব করেছেন।
রাশিয়া অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইউক্রেনে ন্যাটো বা পশ্চিমা কোনো বাহিনী মেনে নেবে না। মস্কো আরও বলেছে, কোনও শীর্ষ বৈঠক হলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে প্রস্তুত করতে হবে। তবে তারা জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি।
ব্রিটিশ গবেষক আন্না মাতভিভা মনে করেন, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি বলেন, এতে ইউরোপীয় দেশগুলো অন্তত কিছু আশ্বাস পাবে। আর ট্রাম্প আলাদা চ্যানেলে জেলেনস্কি ও পুতিনের সঙ্গে এগোতে পারবেন।
এদিকে ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহেই বোঝা যাবে পুতিন আসলেই চুক্তি চান কি না। তিনি বলেন, সম্ভবত তিনি কোনো চুক্তি চাইছেন না। সেটা হলে তার জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হবে।









