ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় জার্মানিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাৎসি সামরিক অতীত ও সাম্প্রতিক বিদেশি অভিযানের ব্যর্থতার কারণে দেশটিতে এমন উদ্যোগ নিয়ে অস্বস্তি বেশ শক্তিশালী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী মিশনে জার্মান অংশগ্রহণে তিনি উন্মুক্ত। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইউরোপীয় অংশীদার ও নিজস্ব জোটের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যেকোনও সেনা মোতায়েনের জন্য বুন্ডেস্টাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে জার্মান রাজনৈতিক মহলে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দলের প্রধান অ্যালিস ওয়েইডেল মের্ৎসের দলকে যুদ্ধবাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রস্তাব বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এমনকি মের্ৎসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুলও সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠানো আমাদের জন্য সম্ভবত অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
জার্মানিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ঐতিহাসিক সংশয় রয়েছে। আফগানিস্তান ও মালিতে মোতায়েনকেও ব্যর্থ হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে, অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।
কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নীতি গবেষক মার্সেল ডিরসুস বলেন, এটি জার্মানিতে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়। সরকার এ নিয়ে খুব সতর্ক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, যে বিষয় বাস্তবায়ন অনিশ্চিত, সেটিতে রাজনৈতিক পুঁজি খরচ করার কোনও মানে নেই।
এমন সময়ে মের্ৎস নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির চাপও মোকাবিলা করছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ জন্য কয়েকশ’ বিলিয়ন ইউরো নতুন ঋণ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। এর বিপরীতে রাশিয়াপন্থি অবস্থান নেওয়া এএফডি দেশজুড়ে জনমত জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও জার্মানরা এ বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক। আরটিএল/এনটিভির এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ জার্মান এ ধরনের মোতায়েনকে সমর্থন করলেও ৪৫ শতাংশ এর বিপক্ষে। বিশেষ করে পূর্ব জার্মানিতে বিরোধিতা সবচেয়ে তীব্র। সেখানে আগামী বছর তিনটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য শাখার নেতা সভেন শুলৎসে বলেন, জার্মান সেনাবাহিনীর পক্ষে সেনা পাঠানোর অবস্থায় নেই। বরং একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলাই জরুরি।
সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) অনেক নেতাই আরও সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। দলটির সংসদ সদস্য রাল্ফ স্টেগনারের মতে, ঐতিহাসিক কারণে এ অঞ্চলে জার্মান সেনা মোতায়েন অত্যন্ত কঠিন বিষয়।
তবে জার্মান সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান টমাস রোয়েভেকাম্প মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে শান্তি বজায় রাখতে জার্মান সেনার উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। তিনি বলেছেন, প্রতিরোধকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে আমাদের সামরিক সক্ষমতা দেখাতে হবে।
এ বিষয়ে সোমবার চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেছেন, এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আসেনি।









