ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়েও হলো না। সোমবার নরেন্দ্র মোদির দল ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে তার বিএ ও এমএ-এর সনদপত্র প্রকাশ্যে হাজির করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে মোদির বিএ পাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে এর ঘণ্টাখানেক পরেই কেজরিওয়ালের দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডিগ্রির যে সনদপত্র ও মার্কশিট দেখানো হয়েছে তা ভুয়া।
রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি প্রধান অমিত শাহ এসব সনদ সাংবাদিকদের দেখান। এ সময় তিনি বলেন, ‘কেজরিওয়াল বারবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি লিখে যাচ্ছেন, তিনি একটি মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তিনি মানুষকে বোঝাতে চান যে প্রধানমন্ত্রীর সনদপত্র ভুয়া। ফলে আমি এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বিএ ও এমএ- এর সদনপত্র তুলে ধরছি।’

গত শুক্রবার কেজরিওয়াল দাবি করেছিলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুসারে প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানে পড়াশোনা করেননি। অথচ মোদির হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সোমবার অমিত শাহ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কেজরিওয়ালকে নিশ্চিত করতে চিঠি লিখব।’
আরও পড়ুন: নিলামে বিক্রি হলেন হাঁটু গেড়ে দাঁড়ানো হিটলার!
বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলিও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও অভিযোগ করেন, কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টি (এএপি) ভিত্তিহীন দাবি করছে। এ দাবি এমন দলের কাছ থেকে আসছে যাদের দলের একজন বিধায়ককে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখানোর ফলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিজেপির সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টা খানেক পরেই এএপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, এ সনদপত্র ভুয়া। এক সংবাদ সম্মেলনে এএপি দাবি করে, বিএ পরীক্ষা পাসের যে সনদপত্র ও মার্কশিট দেখানো হয়েছে তা ভুয়া। এএপির পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্কশিট ও সনদপত্রে নামের বানান এক নয়। তাছাড়া মার্কশিটে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৭ সালে মোদি বিএ পাস করেন কিন্তু সনদপত্রে লেখা আছে ১৯৭৮ সালে পাস করেছেন।
এএপি নেতা আশুতোষ বলেন, নকল করতেও জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। বিজেপির তাও নেই। আরেক নেতা দিলিপ পান্ডে বলেন, মোদির (Modi এর জায়গায় আছে Mody) নামের বানানেও ভুল আছে।
আরও পড়ুন: বিবিসি প্রতিবেদককে বহিষ্কার করলো উত্তর কোরিয়া
এএপির পক্ষ থেকে এবার দাবি করা হয়েছে, নামের বানানের ভুলের কারণে ডিগ্রির মার্কশিট ও সদনপত্র গ্রহণযোগ্য নয়। যদি মোদি এফিডেভিট করে থাকেন তাহলে তা প্রকাশ করার জন্য।
এছাড়া এএপির পক্ষ থেকে বিজেপি প্রধান অমিত শাহসহ দলের নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে শুক্রবার কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি সোনিয়া গান্ধীকে অভিশাপ দিলেও তাকে গ্রেফতার করছে না। আর কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলছে না। বিজেপি ও কংগ্রেস একে অপরকে রক্ষা করছে। এই দেশের মানুষ কি বোকা?
আরও পড়ুন: জঙ্গি সংগঠনগুলোর ঐক্যের ডাক আল কায়েদার, আইএসকে প্রত্যাখ্যান
কেজরিওয়াল আরও বলেছিলেন, ‘গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় যখন জানায় মোদি সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেছেন তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তিনি যদি বিএ ডিগ্রি অর্জন না করেন তাহলে কিভাবে মাস্টার্সে ভর্তি হলেন? এতেই সন্দেহ জাগে যে, মোদির এমএ ডিগ্রির সনদপত্র ভুয়া।
মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র অনলাইনের প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।
/এএ/বিএ/








