ইসলাম ও হিন্দুসহ বেশ কয়েকটি ধর্মের রীতি নিয়ে মোঘল সম্রাট আকবর গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব ধর্ম। নাম দিয়েছিলেন দীন এ এলাহী। আকবরের ইচ্ছে ছিল সব ধর্মের সম্মিলন ঘটাবেন। তবে দীন এ এলাহী বেশি দিন ঠিকে থাকেনি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তা হারিয়ে যায়। মোঘল শাসনের পতন হয়ে ভারত এখন গণতান্ত্রিক দেশ। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে গেলেও সম্প্রতি দেশটির নাগরিক সৈয়দ কায়সার রাজা যেন আকবরের সেই দীন এ এলাহী ধর্ম ফিরিয়ে এনেছেন।
জন্মসূত্রে মুসলমান কিন্তু তিনি নিজে দেবতা হনুমানের ভক্ত। তিনি ঈদ ও রোজা পালন করেন এবং হনুমান মন্দিরে যান। এমনকি ‘বাড়া মঙ্গল’ নামক হিন্দুদের পূজা আয়োজন করেন গঙ্গা-যমুনা মোহনায়। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েই করেন।
কায়সার রাজা লক্ষ্মৌতে একটি সরকারি চাকরি করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে রাজা বলেন, দেবতা হনুমান শুধু হিন্দুদের নয়। আমি মনে করি তিনি (হনুমান) হিন্দুদের সব দেবতার চাইতে শক্তিশালী। যখনই আমি সমস্যায় থাকি, আমি হনুমান মন্দিরে চলে যাই। আমার বিশ্বাস হযরত আলি ও হনুমান বালি উভয়েই একরকম। দুজনেই নিজ নিজ অবস্থান ও ধর্মে সবচেয়ে শক্তিশালী।
মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া রাজা যুবক বয়সে দেবতা হনুমানের ভক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাড়া মঙ্গল উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মী সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজা বলেন, শৈশবে আমি বাড়া মঙ্গলের পিয়াউ-তে যেতাম। সেখানে আমি প্রসাদও খেতাম। হিন্দুদের মাঝেই বড় হয়েছি আমি।
জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবারে বাড়া মঙ্গল পালন করা হয়। এবার দ্বিতীয় মঙ্গলবার (৩১ মে) রাজা আয়োজন করেছেন বান্দারা। তিনি বলেন, কোনও ধর্মের অন্য ধর্ম সম্পর্কে অবজ্ঞা করা হয়নি। আমি মানুষকে জানাতে চাই, ঈশ্বর একজনই। মানুষই ধর্মের নামে ঈশ্বরকে বিভক্ত করছে।
হনুমানের শক্তির ভক্ত রাজা। তিনি মনে করেন, হনুমান দেবতা শিবের আবতার এবং শক্তি, ভক্তি ও অধ্যাবসায়ের প্রতীক। হিন্দু ও মুসলমান বন্ধুরা আমার অনুভুতিকে শ্রদ্ধা করেন।
নিয়মিত নামাজ পড়েন রাজা। বলেন, ঈদ ও রোজা পালনের মধ্যেই আমার ধর্ম সীমাবদ্ধ নয়। আমি দিওয়ালি ও হোলি উৎসবও পালন করি। আমরা যদি হিন্দুদের উৎসব পালন করি তাহলে তারাও আমাদের (ইসলাম) উৎসব পালনে এগিয়ে আসবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/








