কাশ্মিরে হামলা: প্রশ্নবিদ্ধ ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতা

বিদেশ ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৪৯আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৪৯

প্রায় তিন মাস ধরে অশান্ত হয়ে ওঠা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ জন জওয়ান নিহতের ঘটনায় দেশটির গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বলা হচ্ছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেতরে বিদেশি গোয়েন্দাদের ধরপাকড়ের ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সেনা কর্মকর্তাদের মতে, উরির সেনা ঘাঁটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর ভৌগোলিক অবস্থান। ওই এলাকার চেহারা অনেকটা গামলার মতো। যে গামলার একেবারে নীচের অংশে রয়েছে উরির সেনাঘাঁটি। নিয়ন্ত্রণরেখার উল্টো দিকে পাকিস্তানের এলাকা হল উঁচুতে। ফলে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে যথেষ্ট সময় নিয়েই পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআই নজরদারি চালিয়েছে।

এছাড়া হামলাকারীরা উরি সেনাঘাঁটির অভ্যন্তরের অনেক খবর ও তথ্য আগে থেকেই জানত হামলাকারীরা। এমনকি ঘাঁটিতে যে দায়িত্ব বদল ঘটছে তাও জানা ছিল হামলাকারীদের।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের দিক থেকে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা হলেও ভারতীয় গোয়েন্দারা তার কিছুই টের পেলেন না কেন? বিশেষ করে যখন কাশ্মিরে টানা বিক্ষোভের ফলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দাদের চর এখন আর আদৌ আছে কি না সেটাই সন্দেহের বিষয়। আবার ভারতীয় সেনার মধ্যে শত্রুর চর আছে কি না তাও ঠিক মতো ধরা যাচ্ছে না।’ তিনি মনে মনে করেন, এর ফলেই বারবার হামলার সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা।

অবশ্য ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হামলার বিষয়ে আগেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন তারা। তাদের দাবি, উরি সেক্টরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের বিষয়ে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরই সতর্ক করা হয়েছিল। এর পর ১৫ সেপ্টেম্বরও আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ফিদায়েন জঙ্গিদের হামলার পাশাপাশি পাকিস্তানের ব্যাট (বর্ডার অ্যাকশন টিম)-এর একটি দল উরিতে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালাতে পারে বলেও গোয়েন্দা বার্তায় জানানো হয়েছিল।

বিপরীতে সেনা কর্মকর্তাদের দাবি, নির্দিষ্টভাবে কোথায়, কখন হামলা হবে, তা গোয়েন্দাদের সতর্ক বার্তায় উল্লেখ ছিল না।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হন।  এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত। জঙ্গি এ সংগঠন পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে ভারত দাবি করে আসছে। সূত্র: আনন্দবাজার।

/এএ/

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও যেভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন ঋতব্রত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম