পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিবিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে আরেকটি জোটকে শক্তিশালীভাবে দাঁড় করানো। নয়া দিল্লিতে অবস্থানরত তৃনমূল কংগ্রসের নেত্রী মমতা কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে শিব সেনার প্রতিনিধিও ছিলেন। বিজেপিবিরোধী জোট গঠনে আপাতত কংগ্রেসকে ছাড়াই এগোতে চান মমতা। উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে গঠিত হওয়া এসপি ও বিএসপির জোটকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সব বিরোধী দলকে নিয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় বিরোধী জোট’ গড়ে তুলতে চান তিনি। এককালে বিজেপির জোটে থাকা মমতা আজ বলেছেন, ‘বিজেপির চেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক আর কোনও দল নেই।’ শিব সেনার পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত থাকা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, মমতার সঙ্গে শিব সেনার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
মার্চের ২৭ তারিখে মমতা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) শারদ পাওয়ার ও শিব সেনার সঞ্জয় রাউতসহ তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি), সমাজবাদী পার্টি (এসপি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও বিজু জনতা দলের (বিজেডি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেখানে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে একটি জোট গঠনের বিষয়ে কথা বলেছেন। ওই বৈঠকের পর নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সংবাদ সম্মেলনে, মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিব সেনার সঞ্জয় রাউত, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) শারদ পাওয়ার এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে সংসদ সদস্য কে কবিতা।
বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রবল সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকল বিরোধী রাজনীতিবিদকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার বিষয়ে তার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রে বিজেপির জয় ঠেকাতে একটি বিরোধী জোট গঠন করতে চান তিনি। শারদ পাওয়ার ও সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তৃনমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে এবং দেশে এখন বিজেপিবিরোধী হাওয়া বইছে। তার ভাষ্য, ‘আমরা চাই সবগুলো বিরোধী দল একসাথে কাজ করুক। বিজেপির বিরুদ্ধে যে রাজ্যে যে দল সবচেয়ে শক্তিশালী আমরা তাকেই সমর্থন করব। এক সঙ্গে লড়তে হবে।... জনতা বিজেপির বিরুদ্ধে। আমি সব রাজ্যে সফর করেছি। আমি জনগণের মনভাব বুঝেছি। নোট বাতিল করা, জিএসটি ও ঋণ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা তৃনমূল পর্যায়ের নাগরিকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সময় এসেছে বিজেপিকে বিদায় দেওয়ার।’
তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া শত্রুঘ্ন সিনহা, যশবন্ত সিনহা এবং অরুণ সৌরিয়ার সঙ্গে তিনি বুধবার দেখা করবেন। তাছাড়া যদি মায়াবতী ও আখিলেশ যাদব বৈঠক করতে চান, তাহলে মমতা তাদের সঙ্গেও লক্ষ্ণৌতে বসতে পারেন। বিজেপি বিরোধী জোটের কথা বলতে গিয়ে মমতা উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির জোটের প্রশংসা করেছেন। তিনি চান সব বিরোধী দল ওই বিজেপির বিরুদ্ধে থাকা ওই জোটটিকে সমর্থন করুক। শিব সেনার কোনও জোটে জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে রাউত দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। শিব সেনার উদ্ভব থাকরেকে কিছু কথা জানানোর জন্য মমতা তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
যদিও মমতা কংগ্রেসকে ছাড়াই একটি তৃতীয় বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে চাইছেন, তবে কংগ্রসের সঙ্গে যোগাযোগের কথা নাকচ করে দেননি তিনি। মমতার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর যোগাযোগ থাকার কথা জানিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের নেতারা বলেছেন, তাদের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়েও আগ্রহী। শারদ পাওয়ারের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কংগ্রেসকে নিলে অন্য দলগুলো জোটে নাও যেতে পারে, সেই আশঙ্কাতে মমতা আপাতত কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই বিজেপি বিরোধী ‘কেন্দ্রীয় জোট’ গঠনে আগ্রহী। কংগ্রেসকে নিলে বিজিডি ও টিডিপির মতো দলগুলো জোটে যোগ দেবে কি না সে বিষয়ে তাদের মনোভাব জানতে এনসিপিকে অনুরোধ করেছেন মমতা।
সাংবাদিকদের মমতা বলেছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা নির্বাচন কমিশনের মত সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিজেপির প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছে। বিজেপিতে কিছু ভাল লোক থাকলেও এখন তারা এক পাশে পড়ে গেছে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলের তুলনায় এখনকার এনডিএ জোট অনেক ভিন্ন। এখন বিজেপির চেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক দল আর নেই। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া।








