তুলাবীজের প্যাটেন্ট দাবি করে করা মামলার রায় বিরুদ্ধে চলে যাওয়ার পর এবার স্থগিতাদেশের আবেদনেও সাড়া পেল না মনসান্টো। আগের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মনসান্টোর করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মনসান্টো। ভারতে তুলার ৯০ শতাংশই উৎপাদিত হয় মনসান্টোর বীজ ব্যবহার করে।
গত মাসে মনসান্টোর মামলাটি চলাকালে নজিভিড়ু সিডস লিমিটেড (এনএসএল) নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারতীয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে আদালতে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। পেটেন্ট করার যোগ্য এমন বিষয়গুলো থেকে শস্য বীজকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ওই আইনে। সংস্থাটি আদালতে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ভারতে পেটেন্ট করার ও ভারতীয় বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রায়ালিটি দাবি করার আইনসংগত সুযোগ নেই। আদালত ‘এনএসএলের’ সঙ্গে একমত হয়ে রায় দিয়েছিল, ভারতের প্যাটেন্ট আইন অনুযায়ী মনসান্টো তাদের জিএম তুলা বীজের জন্য পেটেন্টও করতে পারবে না, কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রয়ালিটিও দাবি করতে পারবে না। কৃত্রিমভাবে ডিএনএ পরিবর্তন করে শস্যের উন্নত জাতের প্রজাতি বানানোর ব্যবসা করা মনসান্টো ভারতীয় আদালতের ওই রায়ে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছিল।
এরপর মামলাটির রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল মনসান্টো। সেখানেও তারা তাদের পক্ষে রায় হয়নি। তবে মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও আশাবাদী মনসান্টো। তাদের ভারতীয় প্রতিনিধি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দাবির বিষয়ে দৃঢ়। ভারত কৃত্রিমভাবে প্রাণসংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে ১৫ বছর ধরে। সারা পৃথিবীতেই তা করা হচ্ছে।’ রয়টার্স জানিয়েছে, জুলাইয়ের ১৮ তারিখে মামলাটির শুনানি আবার শুরু হবে।
২০০৩ সালে ভারত প্রথমবারের মতো কৃত্রিমভাবে উন্নত শস্যবীজ ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সময়ই মনসান্টোর তুলা বীজ ব্যবহার করা শুরু করেন চাষিরা। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আরও একটি নতুন জাতের কৃত্রিমভাবে উন্নত করা তুলা বীজ ভারতে বাজারজাত করার অনুমতি পেয়েছিল মনসান্টো। তবে শুরু থেকেই রয়ালিটি সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার মধ্যে ছিল মনসান্টো। একবার তারা ভারতের তাদের সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল।








