ভারতে বেআইনিভাবে শিশু দত্তকের অভিযোগ মাদার তেরেসার সংস্থার বিরুদ্ধে

বিদেশ ডেস্ক
০৬ জুলাই ২০১৮, ২৩:০০আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ০১:৪৫

মাদার তেরেসার স্থাপিত দাতব্য সংস্থার ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটির’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত তিনজন নারীকে বেআইনিভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ১৪ দিন বয়সী একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে এক দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়ার। অপর দুইজন সন্দেহভাজন নারীকে অন্যান্য শিশু অবৈধভাবে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সংস্থাটি পূর্ব ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের রাঁচিতে অবস্থিত। রাজ্যের শিশু কল্যাণ সমিতির (সিডব্লিউসি) অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ভারতে বেআইনিভাবে শিশু দত্তকের অভিযোগ মাদার তেরেসার সংস্থার বিরুদ্ধে

 দাতব্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে সুনিতা কুমার বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমাদের নিজেদের ঘরে যা হয়েছে তা জানতে পেরে আমরা হতবাক। এমন ঘটনা সম্পূর্ণভাবে আমাদের নৈতিকতা বিরোধী। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গঠন করব।’

বেআইনিভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার বিষয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নিরাজ সিনহা বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি আরও কয়েকটি শিশুকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বেআইনিভাবে দত্তক দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই শিশুদের মায়েদের নাম সংগ্রহ করেছি।’ তল্লাশি চালিয়ে ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সিডব্লিউসিয়ের সভাপতি রুপা কুমারী বলেছেন, ‘আমরা বর্তমানে উত্তর প্রদেশে একটি শিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির বিষয়ে তদন্ত করছি। তবে দত্তক নেওয়া পরিবারটি বলছে, তারা হাসপাতাল বিল মেটাবার জন্য অর্থ দিয়েছিল। শিশুটির জন্ম হয়েছে। ১৯ মার্চ এক তরুণী শিশুটির জন্ম দেয়। ১৪ মে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া হয়।’ এই ঘটনার পরে রাঁচির ওই সংস্থায় থাকা ১৩ গর্ভবতী নারীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে সিডব্লিউসি।

১৯৯৭ সালে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া মাদার তেরেসা খ্রিস্টান ধর্মে সেইন্ট হিসেবে স্বীকৃত। তাকে ‘সেইন্ট তেরেসা অফ কোলকাতা’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি ১৯৫০ সালে ওই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিবিসি লিখেছে, আইনগতভাবে শিশু দত্তক নিতে গেলে কয়েক মাস থেকে বছরের বেশি সময় লেগে যেতে পারে ভারতে। প্রতি বছর মাত্র কয়েক হাজার শিশুকে আইনগত পথে দত্তক নেওয়া হয়। অথচ বেআইনি পথে হাজার হাজার শিশুকে দত্তক দেওয়া হয়। এর মূল কারণ ভারতে দত্তক নেওয়ার কঠিন আইন ও দীর্ঘসূত্রিতা।

/এএমএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও যেভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন ঋতব্রত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম