ভারতের মহারাষ্ট্রের কৃষকরা প্রদেশটির রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবি, ঋণ মওকুফ ও যেসব জমি তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চাষাবাদ করে আসছে তার মালিকানা বুঝে পাওয়ার। তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর একটি ফসল ও দুধের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। তাছাড়া খরার কারণে ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) মুম্বাই জমায়েতে অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।
২০১৪ সালের যে নির্বাচনে জিতে মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন সেই নির্বাচনে ভারতের কৃষকরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ‘ভারতীয় জনতা দলকে’ (বিজেপি) সমর্থন করেছিল। ‘লোক সাংঘার্ষ মোর্চার’ ব্যানারে হওয়া কৃষকদের এই সমাবেশের প্রতি সমর্থন ছিল ‘জনতা দল (সেক্যুলার),’ ‘আম আদমি পার্টি’ ও ‘শিব সেনার।’ মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলই ক্ষমতাসীন রয়েছে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফাড়নাভিশ।
মুম্বাইতে বিক্ষোভ করা কৃষকরা ঋণ মওকুফ ও জমি ফেরতের দাবিতে লাগাতার স্লোগান দিয়েছেন। এমন প্রতিবাদে আগেও যোগ দিয়েছেন এমন একজন রেমসিং পাওরা। তিনি বলেছিলেন, ‘কয়েক প্রজন্ম ধরে আমরা যেসব জমি চাষ করে যাচ্ছি তা আমাদের নামে নেই। সরকার জমির মালিকানার বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কিছুই করেনি। বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখনও আমাদের হয়রানি করে।’
মুম্বাইতে বিক্ষোভ করা এসব কৃষকের বেশিরভাগই পশ্চিম ভারতের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার। বিক্ষোভকারী প্রতিভা সিন্দে মন্তব্য করেছিলেন, ‘যতদিন না পর্যন্ত সরকার আমদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত ও সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি না দেবে ততদিন পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
মহারাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে ধনী প্রদেশ। ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রদেশটি ৪৭৮ কোটি ডলারের কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছিল। কিন্তু কৃষক নেতাদের ভাষ্য ছিল, ঝুঁকিতে থাকা সব কৃষক এর সুফল পাননি।
শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফাড়নাভিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কৃষক নেতা ভিধান ভাভানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি তাকে কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশেষ করে খরার কারণে ক্ষতিপূরণ ও জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে। আর এই প্রতিশ্রুতি তাকে দিতে হয়েছে লিখিতভাবে।








