জোর করে বিতাড়ন নয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত ভারতের। বৃহস্পতিবার এই দেশটির প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস।
সম্প্রতি ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে ভারত ৩১ রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে সাত নারী ও ১৭ শিশুকে জামিন দেওয়া হলেও তাদেরকে এখনও জেলেই থাকতে হচ্ছে। ওই রোহিঙ্গাদের পক্ষ হয়ে মুচলেকা দেওয়ার জন্য কোনও জামিনদার এগিয়ে না আসায় এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে তারা। এর আগে দেশটির সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ৩১ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিবি) বাধা দিলে রোহিঙ্গা নাগরিকেরা দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। চারদিন সেখানেই ছিল তারা। অবশেষে মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের ৫-৬টি গাড়িতে করে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। তাদেরকেও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত ভারত থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ১৩০০ রোহিঙ্গা। যদিও ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মারধর ও হুমকি দিচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহ ও দিনে তারা জোর করে কয়েকজনকে বাংলাদেশ পাঠিয়েছে।
ফর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ বিবৃতিতে বলেছেন, গণহত্যা থেকে বাঁচতে নিরাপত্তা চেয়ে পালানো আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুতই সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত ভারতের, তাদেরকে জোর করে দেশ থেকে বিতাড়ন করা উচিত নয়।
ম্যাথিউ আরও বলেন, শরণার্থী হওয়ার কারণে কোনও শরণার্থীকেই কারাগারে পাঠানো উচিত না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের উচিত অবিলম্বে আটককৃত শরণার্থীদের মুক্তি দেওয়া এবং জাতিসংঘকে তাদের কাছে পৌঁছানো ও নৃশংসতা থেকে বেঁচে যাওয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটির পক্ষ থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশ পালিয়ে আসা ছয় রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তারা ভারতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা দ্বারা শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এখন ভারতে বসবাস তাদের জন্য নিরাপদ নয়। শরণার্থী মর্যাদাও তাদের কোনও সহযোগিতা করতে পারছে না। ভারতীয় কর্তপক্ষের লোকেরা তাদের বাড়িতে এসে সব বায়োমেট্রিক তথ্য নিতে চাইছে জোর করে এবং মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাচ্ছে। এই অবস্থায় তারা বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছেন।
ভারত সরকারের তথ্য মতে, দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছেন। এদের মধ্যে ১৮ হাজারের শরণার্থী মর্যাদা রয়েছে।








