ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে স্বাধীনতাপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বরাদ্দ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি যে রকমই হোক না কেন তাদের কাউকেই আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এদের মধ্যে রয়েছেন ‘অল পার্টিস হুররিয়াতের’ পাঁচ নেতা। ভারত সরকারের এক আদেশে রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আরও জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি তারা যদি অন্য কোনও সরকারি সুবিধা ভোগ করে থাকেন তাও বাতিল করা হচ্ছে। কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থী সংশ্লিষ্ট নেতাদের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা আগেও সরকারি নিরাপত্তা চাননি, আর এখনও সরকারি নিরাপত্তার কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে দেশটির ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়ি বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে আদিল মোহাম্মদ দার বিস্ফোরণটি ঘটায়। এতে বহরের ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এতে বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। হামলার পর জইশ-ই-মোহাম্মদ নামের জঙ্গি সংগঠন এর দায় স্বীকার করে। ভারত এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে দেশটির সেনাবাহিনীকে যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দিয়েছে।
কাশ্মির হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং মন্তব্য করেছিলেন, যাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে পাকিস্তান ও আইএসআই অর্থ সহায়তা দেয়। তাদেরকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। সেই সূত্রে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার এ আদেশ দেওয়া হয়েছে রবিবার। নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মিরওয়াইজ উমর ফারুক, আব্দুল ঘানি ভাট, বিলাল লোন, হাশিম কুরেশি ও সাবির শাহ। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নিরাপত্তারক্ষী এবং গাড়ির সুবিধা তারা আর পাবেন না। এর বাইরে অন্য কোনও সরকারি সুবিধা যদি তারা নিয়ে থাকেন তাও অবিলম্বে বাতিল হয়ে যাবে।
সরকারের আদেশে আরও বলা হয়েছে কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থী নেতাদের মধ্যে আর কেউ সরকারি নিরাপত্তাসহ অন্য কোনও সুবিধা পায় কি না তা খুঁজে দেখা হবে এবং সে রকম কেউ থাকলে তার জন্যও সরকারি সুবিধা বাতিল করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ‘অল পার্টি হুররিয়াত কনফারেন্সের’ মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, সংগঠনটির নেতারা কখনও তাদের জন্য সরকারি নিরাপত্তা দাবি করেননি। তারা আগে থেকেই বলে আসছেন নিরাপত্তা প্রত্যাহারের জন্য। সরকারি নিরাপত্তারক্ষী রাখাটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়াটাও তাদের সিদ্ধান্ত।
‘আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির’ প্রধান ও হুররিয়াত নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক মন্তব্য করেছেন, সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা না থাকায় কোনও কিছুই পাল্টায়নি, সবকিছু আগের মতোই রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘সরকার এবং সরকার সমর্থক কাশ্মিরবিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলো বারবার তাদেরকে দেওয়া সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গটি সামনে তুলে নিয়ে আসছে রাজনৈতিক কারণে। অথচ তারা ভালো করেই জানে, সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া আর না দেওয়াতে কাশ্মির সংকট সমাধানের বিষয়টি কোনওভাবে সম্পর্কিত নয়। হুররিয়াত নেতাদের বাসভবনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের থাকা না থাকায় পরিস্থিতির ওপর কোনও প্রভাব পড়ে না।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের ভাষ্য, ‘অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্স’ জন্ম নিয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এটি স্বাধীনতাপন্থী সংগঠনগুলোর একটি জোট। সদস্য দলগুলোর দর্শন ভিন্ন ভিন্ন হলেও তারা মূলত একটি বিষয় একমত। তারা সবাই মনে করেন, কাশ্মির ‘ভারত অধিকৃত’ একটি অঞ্চল। রবিবার যে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হুররিয়াতের তার পাঁচ নেতার সরকারি নিরাপত্তা ও যানবাহন বাতিল করা হয়েছে, তাতে নাম নেই জোটটির প্রধান আলী শাহ গিলানির।








