‘রমিলা থাপারকে এমিরিটাস অধ্যাপক থেকে সরাতে চায়নি জেএনইউ’

বিদেশ ডেস্ক
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:০৭আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:০৮

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রমিলা থাপারসহ কারও এমিরিটাস অধ্যাপক পদ কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতের জনসম্পদ মন্ত্রণালয়। সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিকস টাইমস এখবর জানিয়েছে।

‘রমিলা থাপারকে এমিরিটাস অধ্যাপক থেকে সরাতে চায়নি জেএনইউ’

সম্প্রতি ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারসহ কয়েকজন অধ্যাপকের এমিরিটাস অধ্যাপকের জীবনবৃত্তান্ত দাখিল করতে চিঠি দিলে বিতর্ক শুরু হয়। জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এই অধ্যাপকদের একটি চিঠি দিয়ে জীবনবৃত্তান্ত জানতে চান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের পদ পুনর্বিবেচনা করতে চায় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়ে ছিল।

এই এমিরিটাস অধ্যাপকদের মধ্যে রমিলা থাপার ছাড়াও আছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী রাজারমন, সাবেক উপাচার্য আশীষ দত্তও। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৫ জন এমিরিটাস অধ্যাপকের মধ্য থেকে ১২ জনকে এই চিঠি দেওয়া হয়। তাদের সবার বয়সই ৭৫ এর বেশি।

এই ঘটনায় ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করে তারা দাবি করেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রমিলা থাপার বরাবরই সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছেন। একারণেই তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অধ্যাপকদের অভিযোগ।

জেএনইউ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রমিলা থাপারকে অপমানিত করার জন্যই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

জনসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুব্রামানায়াম বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে এই বিতর্ক নিয়ে কথা বলেছি। কারও এমিরিটাস অধ্যাপকের পদ কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই তাদের।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, তারা শুধু নিয়ম অনুসরণ করছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ বছরের বেশি যেকোনও অধ্যাপকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জানতে চায় যে, তারা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছুক কি না। বয়সের কারণে তারা দায়িত্বে থাকতে পারবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। যাদের বয়স ৭৫ ছাড়িয়েছে তাদেরকেই শুধু এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, এই চিঠি কাউকে বাদ দেওয়ার জন্য নয়, বরং নির্বাহী পরিষদ তাদের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন নিয়ম চালু রয়েছে।

গত ছয় দশক ধরে অধ্যাপনা এবং গবেষণার কাজ করে আসছেন রমিলা থাপার। ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি জেএনইউতেও অধ্যাপনার কাজ করেছেন। দেশ বিদেশে একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইতিহাসবিদ হিসেবে তার প্রধান চর্চার বিষয় প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস। প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বইয়ের মধ্যে ‘এ হিস্টোরি অফ ইন্ডিয়া’বহুল আলোচিত। দু’বার ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন, কিন্তু দু’বারই তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 

/এমএইচ/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও যেভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন ঋতব্রত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম