পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার অশোক নগরে একটি নতুন ক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ওয়েল অ্যান্ড ন্যাচারেল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি)। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে ১০/১২ একর জমি যত দ্রুত সম্ভব বরাদ্দের অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজ্য কর্মকর্তারা এর আগে ওএনজিসিকে অশোকনগর/কল্যাণগড় এলাকায় ৩ একর জমি লিজ দিয়েছিলেন। স্থানটি কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন প্রকল্পের তারা ইতোমধ্যে জমি চিহ্নিত করেছেন। স্থানীয় পৌর চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার ওএনজিসির কাজের ক্ষেত্রে অনাপত্তী পত্র দিয়েছেন।
ওএনজিসি’র গ্যাস আবিষ্কারে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা খুশি। ভারতজুড়ে কোম্পানিটি ৫টি নতুন স্থানে গ্যাস আবিষ্কার করেছে। এগুলোর একটি হলো অশোকনগর। কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে তা রাজ্যের বিকাশহীন অর্থনীতিতে গতি আনবে।
দেড় বছর আগে ওএনজিসি তাদের অনুসন্ধান শুরু করে ওই এলাকায় কূপ খননের মাধ্যমে। গ্যাস উত্তোলনের সেস বাবদ রাজ্য সরকারকে কোম্পানিটি ৪ লাখ রুপি দেয়। ত্রিশ বছরের জন্য জমি লিজ দিয়ে সরকার আরও বড় অংক আয় করবে।
জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার কর্মকর্তারা বরছেন, প্রকল্প বিস্তৃত করার জমির বিষয়ে অনুমোদনের জন্য বিস্তারিত পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ওএনজিসি সূত্র তাদের জানিয়েছে, তাদের খনন করা একটি কূপে গ্যাস পাওয়া গেছে। নিশ্চিত হওয়া গেছে ওই কূপে দৈনিক ১ লাখ কিউবিক মিটার গ্যাসের প্রবাহ রয়েছে। একটি কূপে সামান্য পরিমাণ তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।
প্রবোধ সরকার বলেন, কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের বলেছেন ২৪ পরগনায় মাটির নিচে বড় ধরনের গ্যাসের মজুত রয়েছে। অশোকনগরের ক্ষেত্রটি এত বড় যে কয়েক দশকের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পারবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রয়োজন হবে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। অনেকেরই কর্মসংস্থান হবে।
তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ওএনজিসি’র আবিষ্কার করা গ্যাসের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কলকাতাভিত্তিক এক বিশেষজ্ঞ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্থানে কূপ খনন ও অনুসন্ধান হয়েছে ও চলছে। তবে কোথাও আশাব্যঞ্জক প্রতিশ্রুতি ছাড়া সহজলভ্য গ্যাস বা তেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই কাজে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে।
ওই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, অবশ্য এবারই প্রথম ওনজিসির মতো বড় কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিবাচক ঘোষণা এসেছে, যা খুবই উৎসাহ উদ্দীপক। তিনি আশা করেন, অশোকনগরের প্রস্তুতিমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ গ্যাস উত্তোলতে তেল বা কয়লার চেয়ে কম দূষণ হয়। ভারত সরকারও ২০৩০ সালের মধ্যে তেল আমদানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায়। বর্তমানে দেশের জ্বালানির ৮০ শতাংশ আমদানি করা হয়। যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় বোঝা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরায় গ্যাস বোতলজাত করণের একটি কারখানা স্থাপন করবে কেন্দ্র সরকার।
ভারতের জন্য এর চেয়ে ভালো কোনও সময়ে নতুন জ্বালানি আবিষ্কার হতে পারত না। ২০১৭-১৮ সালে ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ পৌঁছে গিয়েছিল ৮৭.৭ বিলিয়ন ডলারে। ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ১৮ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতির মুখে রয়েছে। যা যে কোনও সময়ের চেয়ে কম। এই পরিস্থিতির উন্নতির কোনও চিহ্নও দৃশ্যমান হচ্ছে না। মোডি’স করপোরেশন তাদের পূর্বাভাসে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ঘাটতি মোকাবিলা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।








