ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পারিবারিক খামার থেকে ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই দলিত মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উন্নাও জেলার একই জায়গা থেকে ১৭ বছরের আরেক মেয়েকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। অপেক্ষাকৃত বড় দুই জন আপন বোন আর অপর জন তাদের চাচাতো বোন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলেও ওই তিন বোন গবাদি পশুর খাবার সংগ্রহ করতে মাঠে যায়। পরে তারা ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় তাদের নিজেদের পোশাক দিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মেয়েরা বিষক্রিয়ায় মারা গিয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা সুরেশ্বাও এ কুলকার্নি বলেন, ‘তাদের মুখ থেকে সাদা কিছু একটা বের হয়ে আসছিলো আর ডাক্তার বলেছেন এটা বিষক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য রেকর্ড করছি এবং আরও বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এই ঘটনার শিকার মেয়েরা দলিত পরিবারের। দলিতদের সুরক্ষায় ভারতে আইন থাকলেও দেশজুড়ে এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন।
২০১২ সালে দিল্লিতে একটি বাসে এক তরুণ নারী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে ভারতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ওই ঘটনার পর ধর্ষণ বিরোধী আইন কঠোর করা হলেও এখন পর্যন্ত এই ধরনের সহিংসতা কমার কোনও লক্ষণ নেই।
এছাড়া গত কয়েক বছর ধরেই নারীর প্রতি যৌন সহিংসতার জন্য উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে নিজের দায়ের করা ধর্ষণের মামলায় স্বাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে এক নারীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি মারা যান। তার দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালে দণ্ডিত হন রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক আইনপ্রণেতা।









