ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি। রবিবার বিকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছানোর পরই ‘সোনার বাংলা সঙ্কল্প পত্র ২০২১’ শীর্ষক এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে রেশনে ১ রুপিতে চাল দেওয়া এবং ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়াসহ নানা অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিজেপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই শরণার্থীদের (অমুসলিম) নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ‘কিষাণ সম্মান নিধি’তে কৃষকদের বছরে ১০ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে। ক্ষমতায় গিয়েই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। ৫ টাকার বিনিময়ে তিন বেলা আহারের ব্যবস্থা করা হবে। রেশনে কেজি প্রতি ১ রুপিতে চাল-গম, ৩০ রুপিতে ডাল, ৫ রুপিতে চিনি বিক্রি করা হবে। প্রতি পরিবারের অন্তত এক জন ব্যক্তি চাকরি পাবেন।
চারটি মেগা ফুড পার্ক, ১০টি ছোট ফুড পার্ক, একটি চা পার্ক, দুটি সি ফুড প্রসেসিং পার্ক স্থাপন করা হবে। দুইটি চামড়া শিল্প উদ্যান, একটি লৌহ ইস্পাত শিল্প উদ্যান, একটি জুয়েলারি শিল্প উদ্যান, একটি ফার্মা পার্ক, একটি ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উদ্যান এবং একটি অটো শিল্প পার্ক স্থাপন করা হবে। ফসলের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি রুপির ফান্ড তৈরি করা হবে।
সব স্কুলে পানি, বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, শৌচাগার, খেলার মাঠ থাকবে।
২০ লাখ যুবকের দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রতিটি ব্লকে নেতাজি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য ২০ হাজার কোটি রুপির ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তহবিল স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ব্লকে কমিউনিটি স্পোর্টস সেন্টার, প্রতিটি মহকুমায় মাল্টি স্পোর্টস স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি জেলায় ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। নারী স্বনির্ভরতা গোষ্ঠীগুলোর জন্য পাঁচ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করা হবে। রাজ্যের সব মেয়েকে আর্থিক সহায়তা এবং ১৮ বছর বয়স হলে দুই লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। নারীদের জন্য যাবতীয় গণপরিবহণ ফ্রি করে দেওয়া হবে। বিধবা ভাতা ১ থেকে বেড়ে ৩ হাজার হবে। প্রসূতিদের অনুদান ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার রুপি করা হবে। প্রতি ঘরে শৌচাগার থাকবে।
ইশতেহারে বাংলার উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি যা বলে তাই করে, তার চেয়ে বেশিই করে।’
ইশতেহার প্রকাশের আগে অমিত শাহ বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই ইশতেহার কেবল ফাঁপা একটা কাগজ। কিন্তু বিজেপি সরকার গড়ার পরেই এই ইশতেহারের বাস্তবায়ন হয়েছে। এই জন্যই আমরা নাম দিয়েছি সঙ্কল্পপত্র। কারণ আমাদের সঙ্কল্প, বাংলাকে সোনার বাংলা গড়বো। এটা কেবল ঘোষণা নয়, সঙ্কল্প। এটা প্রকাশের আগে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে নানা পদ্ধতির মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘সোনার বাংলা কোনও অলীক কল্পনা নয়। অতীতে বাংলা সারা ভারতের থেকে এগিয়ে থাকতো। বাংলা থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছে। জনগণমন, বন্দেমাতরম তৈরি হয়েছে এই বাংলাতেই। কিন্তু এখন বাংলা পিছিয়ে গেছে। বামদের শাসন, মমতা দিদির শাসনের পরিণাম এটা।’ সূত্র: দ্য ওয়াল, টাইমস অব ইন্ডিয়া।









