ভারতের মুম্বাইয়ে শপিং মলের অভ্যন্তরে অবস্থিত এক হাসপাতালে রাতের বেলা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। আগুন লাগার পর ৭০ জন করোনা রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিরাপদে বের করে সম্ভব হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দশটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্দভ ঠাকরে। তিনি জানান, নিহতদের কয়েকজন ভেন্টিলেশনে থাকায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারতের অন্যতম প্রধান কোভিড-১৯ ‘হটস্পট’ মহারাষ্ট্র। বৃহস্পতিবারও মুম্বাইয়ে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর শহরটিতে এদিনই সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ড্রিম মলের সানরাইজ হাসপাতালে আগুন লাগে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে বারোটার পর আগুন শুরু হলে দমকল বাহিনীর ২২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে হাজির হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ৭০ জনেরও বেশি করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। এদের কয়েক জন ছিলো ভেন্টিলেশনে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি কর্মকর্তারা।
মুখ্যমন্ত্রী উদ্দভ ঠাকরে জানিয়েছেন, মহামারি মোকাবিলায় হাসপাতালটিকে অস্থায়ীভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বিগত এক বছর ধরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। রাজ্যে মহামারির প্রকোপ শুরুর সময়ে আমাদের খুব হাসপাতাল বেড ও ভেন্টিলেটর ছিলো, তারপরও আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি, আর অস্থায়ী হাসপাতাল বানাতে হয়েছে। এই হাসপাতালটিকেও অস্থায়ীভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে বলা হয়। আগামী ৩১ মার্চ এই অনুমোদন শেষ হবে।’
অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হতাহতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক টুইট বার্তায় দাবি করে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। পরে তারা কয়েক জন রোগী নিখোঁজ থাকার কথা নিশ্চিত করে।









