করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতের পাশে থাকার প্রস্তাব দিয়েছে চিরবৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতকে ভেন্টিলেটর ও বাইপ্যাপসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, সবার আগে মানবতা।
এরইমধ্যে দৈনিক সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড করেছে ভারত। কয়েক দিন ধরে তিন লাখের বেশি মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ছে। সংকটের মুখে চিকিৎসা ব্যবস্থা, হাসপাতালগুলো তীব্র অক্সিজেন-সংকটে পড়েছে। খালি নেই সাধারণ ও আইসিইউ শয্যাগুলো। উপচে পড়ছে করোনা রোগীদের ঢল।
করোনায় বিপর্যস্ত ভারতের বর্তমান অবস্থায় সহমর্মী হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভারতের জনগণের পাশে থাকার অংশ হিসেবে ভেন্টিলেটর, বাইপ্যাপ, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, পিপিপি ও সম্পর্কিত অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।’
এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য পাকিস্তান ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উপায় বের করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে করোনা মহামারির কারণে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে তা নিরসনে পারস্পরিক সহায়তার সম্ভাব্য উপায়গুলো আরও বিকশিত হতে পারে।
ভারতের জনগণের সঙ্গে সংহতির ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯-এর ভয়াবহ ঢেউয়ের মধ্যে লড়াইরত ভারতের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে চাই। আমাদের প্রতিবেশী ও বিশ্বের যারা এই মহামারিতে ভুগছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আমাদের অবশ্যই মানবতাকে সামনে রাখতে হবে।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিও তার টুইটে বলেছেন, সবার আগে মানবতা। ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে টুইট করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীও। তিনি লিখেছেন, ‘কঠিন এই সময়ে ভারতের জনগণের জন্য আমাদের দোয়া রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রতি সহায় হোক, আশা করি কঠিন এই সময় দ্রুত কেটে যাবে।’
ভারতের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও। যদিও সেখানকার অবস্থাও ভালো নয়। পাকিস্তানেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কঠোর হওয়ার কথা বলছে দেশটির সরকার।









