ছবিটি দেখলে মনে মাত্রই পোশাক পরা অবস্থাতেই গোসল করে এসেছেন। কিন্তু পানি নয়, ঘামেই ভিজেছে তার পুরো শরীর। তিনি ভারতের গুজরাটের একটি হাসপাতালের ডাক্তার সোহিল মাকওয়ানা।
গত বছর করোনার প্রথম ঢেউ ভারতে আছড়ে পড়ার পর থেকেই পিপিই কিট পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতে দেখা গিয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এবছর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। দৈনিক সংক্রমণ চলেছে চার লাখ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ আরও বহুগুণ বেড়েছে চিকিৎসকদের উপরে।
আহমেদাবাদে জন্ম নেওয়া ডাক্তার সোহিলের এই ছবিটিতেও সে কথা উঠে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, টানা ১৫ ঘণ্টা পিপিই পরার পর তার শরীরের এই অবস্থা হয়েছে। এভাবেই করোনা রোগীদের সেবা করে যাচ্ছেন তিনি।
গত বুধবার ছবিটি শেয়ার করেছেন সোহিল। একটি ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে শার্ট-প্যান্ট পরে ঘর্মাক্ত অবস্থায়। অন্য ছবিতে তিনি রয়েছেন পিপিই পরা অবস্থায়। ছবি দু’টি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, দেশের সেবা করতে পেরে গর্বিত।
এছাড়া টুইটারে তিনি লিখেছেন, সব ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি, আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি। পরিবারের থেকে বহু দূরে থাকলেও কখনও কোনও করোনা পজিটিভ রোগীর কাছ থেকে মাত্র এক ফুট দূরত্বে থেকে। কখনও বা গুরুতর অসুস্থ প্রবীণের থেকে এক ইঞ্চি দূরত্বে। সবাইকে অনুরোধ, টিকা নিন। এটিই একমাত্র সমাধান। নিরাপদে থাকুন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা পড়িয়ে অন্তর্জালে। নেটিজেনরা মুগ্ধ এই কোভিড যোদ্ধার অদম্য উদ্দীপনা ও আদর্শ দেখে। এই দু’দিনে তা দেখে ফেলেছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
গুজরাটের জিএমএইআরএস মেডিক্যাল কলেজ ধারপুরে কর্তব্যরত এই ডাক্তার জানান, আমাকে কোভিড ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি অনেক গরম এবং আর্দ। প্রতিদিনই আমাকে ঘামে ভিজতে হয়।
এই ফার্মাকোলজিস্ট আরও বলেন, বিষয়টি শুধু আমার নয়। এটি সব স্বাস্থ্যকর্মীরা জন্য। উপর থেকে নিচে সবাই দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সূত্র: টাইমস নাউ









