কর্নাটকের মাইসুরু শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন ৪৫ বছরের আনন্দ। দুরারোগ্য মানসিক রোগে আক্রান্ত তার সন্তান। যার চিকিৎসায় কিনা ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে টানা ১৮ বছর। মাঝে বিরতি দেওয়া যাবে না একটুও। এদিকে ওষুধের মজুত শেষের পথে। করোনার বাড়াবাড়িতে লকডাউন ওঠারও জো নেই। কিন্তু ওষুধটা আনতে আনন্দকে যেতে হবে ১৪০ কিলোমিটার দূরের বেঙ্গালুরুর মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিওরোসায়েন্স হাসপাতালে। কারও কাছ থেকে ধার পাচ্ছেন না মোটরসাইকেলও। শেষে নিজের ভাঙাচোরা একখানা বাইসাইকেল নিয়েই ছুট লাগালেন। প্যাডেল চালিয়ে যাওয়া-আসাসহ পাড়ি দিলেন ২৮০ কিলোমিটার!
মাঝে কারও মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে বসলেও তো পারতেন? আনন্দকে প্রশ্ন করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। আনন্দ জানালেন, তাতে একটা ঝুঁকি থেকে যায়। মোটরসাইকেলে কারও পেছনে বসাটা এখন নিষিদ্ধ। পথে পুলিশ আটকে দিলে তখন আরেক বিপদ। এ কারণে ভরসা করেছেন নিজের পায়ের ওপরই।
২৩ মে রাতে বাড়ি ছেড়ে বের হন আনন্দ। পরদিন এক মন্দিরে বিশ্রাম নেন। এরপর বনশংকরি নামের এক জায়গায় পৌঁছালে সেখানকার লোকজন তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করে। পরদিন তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।
সময়মতো ওষুধ আনতে পেরে আপাতত আনন্দে আটখানা আনন্দ। খুশি মনে এও জানালেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর যখন সবাই জানলো যে তিনি এতদূর সাইকেলে এসেছেন, তখন এক ডাক্তারবাবু তাকে এক হাজার রুপি দিয়েছেন।
আনন্দকে কেউ অবশ্য এটা জিজ্ঞেস করেনি যে দীর্ঘ পথচলায় তার শারীরিক সমস্যা হচ্ছে কিনা। হবেই বা কেন, সন্তানের জন্য ওষুধটা শেষতক আনতে পেরেছেন। এ তো তার আনন্দযাত্রা!









