ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টের আগে নাশকতা ঘটাতে সক্রিয় হয়ে উঠে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী। আর এর মাঝেই রবিবার কলকাতা শহর থেকে তিন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরের বুকে কিভাবে নাশকতার ছক কষা চলছিল তা নিয়ে তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের কাছে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এদিকে তিন জঙ্গিকে সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত ঈশান ঘোষ রোডের একটি বাড়ি থেকে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির তিন সন্ত্রাসীকে। ধৃতদের নাম যথাক্রমে নাজিউর রেহমান, শাব্বির ও রেজাউল। ইতোমধ্যেই তাদের কাছ থেকে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, বাংলাদেশের পাসপোর্ট এবং জেএমবি সম্পর্কিত প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি এসটিএফ উদ্ধার করেছে। যে বাড়িটিতে তিন জঙ্গি ভাড়া থাকতো সেটিতে রীতিমতো চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই তিনজনকে গ্রেফতারের পরই এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসটিএফ। জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা আল আমিনের সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। নাজিউর ওরফে জোসেফই মূল সংযোগকারী। জেএমবির আরেক শীর্ষ নেতা তসমিনের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল ধৃতদের। সম্ভবত তার নির্দেশেই ভারতে এসেছিল ধৃতরা।
হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত ঈশান ঘোষ রোডে একটি বাড়িতে দুইটি ঘর ভাড়া নিয়েছিল তিন জন। বাড়িওয়ালাকে একজন নিজের পরিচয় দিয়েছিল ফল বিক্রেতা হিসেবে। আর দুই জন ছাতা সারানোর কাজ করতো বলে জানিয়েছিল। কয়েকদিন হল নতুন জায়গায় গিয়েছিল তিন জন। তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। যদিও ওই এলাকায় অনেকদিন ধরেই তারা থাকতো। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বাড়িওয়ালা কেউই বিন্দুমাত্র টের পাইনি যে, এরা পেছনে পেছনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে।
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স একটি অভিযান চালিয়ে জেএমবির এই তিন জনকে গ্রেফতার করে। বাংলাদেশের কাশিপুর জেলে বন্দি জেএমবি জঙ্গি নাহিদ তাসনিমের নির্দেশেই কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল এই তিন সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানতে পেরেছে এসটিএফ। ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মালদা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর তারা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।









