সাড়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চালু হলো আরও একটি নতুন রেলপথ। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ি থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের চিলাহাটি পর্যন্ত গেল পণ্যবাহী ট্রেন।
এদিন সকালে পাথর বোঝাই ৪০টি বগি নিয়ে এনজেপি, জলপাইগুড়ি, হলদিবাড়ি স্টেশন হয়ে ভারতের পণ্যবোঝাই ট্রেন গিয়ে পৌঁছায় নীলফামারীর চিলাহাটি স্টেশনে।
অনেক আগেই এই রেলপথ চালু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা থমকে ছিল। অবশেষে এদিন ট্রেন চললো হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে।
১৯৬৫ সালে হলদিবাড়ি-চিলাহাটির এই রেলপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ৫৬ বছর পর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে পুনরায় এই পথে রেল যোগাযোগের সূচনা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সেবার রেলপথের সূচনা হলেও করোনার কারণে পরিষেবা শুরু হয়েও বন্ধ হয়ে যায়। এই রেলপথ হাসিনা-মোদি কর্তৃক উদ্বোধনের পর কথা ছিল ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে রেল চলাচল শুরু হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং চিলাহাটিতে যথাযথ পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় সেটি যথাসময়ে শুরু হয়নি।
১ আগস্ট পণ্য নিয়ে ট্রেন হলদিবাড়ি থেকে চিলাহাটি পৌঁছাবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। টানা বৃষ্টির জেরে রেলপথে সমস্যা হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু অবশেষে রবিবার বিকাল ৫টার আগে পাথর ও গম বোঝাই ৪০টি বগি নিরাপদেই পৌঁছায় সেখানে। যদিও ৫২টি বগি যাওয়ার কথা ছিল। তবে এই রেলপথ চালু হওয়ায় এবার অক্সিজেন এক্সপ্রেসও যেতে পারে, এই আশা উজ্জ্বল হচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে হলদিবাড়িতে পৌঁছায় একটি পণ্যবাহী ট্রেন। সেই ট্রেনকে স্বাগত জানাতে হলদিবাড়ি স্টেশনে হাজারো মানুষের ঢল নামে। আন্তর্জাতিক এই রেলপথ ধরে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ায় খুশি উভয় দেশের বাসিন্দারা। এবার যাত্রীবাহী ট্রেন কবে যাতায়াত শুরু করবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা।
/এমপি/









