তালেবানদের কাবুল দখলের পর চিন্তিত ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির এই উত্থান দেশে থাকা একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীর স্লিপার সেলগুলো নতুন করে সক্রিয় হতে পারে। এই একই আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর স্লিপার সেলের সদস্যদের নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ফের বাংলাদেশের জেএমবির মতো জঙ্গি সংগঠনের মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা শুরু হয়েছে। তাই জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে এবার রাজ্যের আনাচে-কানাচে নিজেদের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির কাজ চালু করছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা।
ভারতীয় গোয়েন্দারা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছেন, কাবুল দখল করার পাশাপাশি তালেবান বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, কাবুলের পর এবার গোটা বিশ্বে নিজেদের শক্তি বা নাশকতা ছড়াতে উন্মুখ তারা। ফলে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসা গোষ্ঠীটি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা শুধু দেশে নয়, রাজ্যেও বেশ কিছুদিন ধরে সক্রিয়। যার মধ্যে একটি হলো- আনসার-উল্লাহ-বাংলা টিম বা এবিটি। কিছুদিন আগে এই সংগঠনের নাম পাল্টে আনসার-উল্লাহ-ইসলাম রাখা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে কাজ শুরু করলেও ২০১৩ সালে এবিটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নাম বদলানো সেই সংগঠনই এপারের গোয়েন্দাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের সঙ্গে আনসারুল্লাহ দাওয়াহিল্লা একটি মিটিংয়ের সময় নতুন করে নাশকতার ডাক দেওয়া হয় বলে জানতে পারেন ভারতীয় গোয়েন্দারা ।
পাশাপাশি গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, নিজেদের বক্তব্য সংগঠনের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘আনসার-উল্লাহ বাংলা’ নামে একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছিল। যার সার্ভার রাখা ছিল পাকিস্তানে। এই সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে আল-কায়েদা এবং তালেবানদের হয়ে লাগাতার প্রচার শুরু করে এবিটি। সংগঠনের এই ভাবধারা ‘মাদু’ এবং সদস্যরা ‘ইখাওয়া’ নামে পরিচিত। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ।








