বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে মন্ত্রীদের সাক্ষাত ঘিরে ভারতের উত্তর প্রদেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। রবিবারের এই সহিংসতায় নিহত মোট আট জনের মধ্যে চারজনই কৃষক।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে বিগত দশ মাস ধরেই বিক্ষোভ করছেন কৃষকেরা। আগামী বছর উত্তর প্রদেশের রাজ্য নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাতে যান দুই মন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব মাউড়িয়ার সফর ঠেকাতে উত্তর প্রদেশের লক্ষিপুর খেরি জেলায় জড়ো হয় কৃষকেরা। তারা বলছেন, মন্ত্রীদের গাড়ি কৃষকদের ওপরে চালিয়ে দেওয়া হলে সহিংসতা শুরু হয়। ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ওই এলাকায় বিভিন্ন গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
কৃষক ইউনিয়নের এক নেতা ড. দর্শন পাল বলেন, ‘মন্ত্রীদের আগমন ঠেকাতে কৃষকেরা হেলিপ্যাড ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করে। তা শেষ হয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষই ফিরতে শুরু করে। তখনই তিনটে গাড়ি আসে আর কৃষকদের উপর চালিয়ে দেওয়া হয়... এক কৃষক ঘটনাস্থলে আর আরেকজন হাসপাতালে মারা যায়।’ ওই গাড়িতে মন্ত্রীপুত্র ছিলো বলেও জানান তিনি।
তবে সহিংসতায় নিজের পুত্রের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলো না। দুস্কৃতিকারীরা কর্মীদের লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে আক্রমণ করেছে। আমার ছেলে সেখানে থাকলে বেঁচে ফিরতো না।’ অজয় মিশ্র বলেন, ‘আমার ছেলে উপ মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছিলো পুরোটা সময়... আমি উপ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই ছিলাম।’
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলেন কৃষকদের একটি অংশ বিক্ষোভ করেছে। ‘তারা কালো পতাকা দেখিয়েছে, গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করেছে, সেগুলো ফিরে লেগেছে। দুই কৃষক গাড়ির নিচে পড়ে আর মারা যায়। তিন বিজেপি কর্মী এবং এক গাড়ি চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
কৃষক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, গাড়ির আঘাতে চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ছয় জন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা তেজিন্দর এস ভিরাক মারাত্মত আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।








