ফের সিএএ কার্যকরের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলো। মোদি সরকারের পাস করা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ আদৌ কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে শরণার্থী হয়ে ভারতে গিয়ে বসবাসরতদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ মতুয়াসহ উদ্বাস্তুরা। আইনটি কার্যকর না হওয়ায় এবার ক্ষোভ জানিয়েছে খোদ বঙ্গ বিজেপির উদ্বাস্তু সেল।
বঙ্গ বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের আহ্বায়ক ড. মোহিত রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত রবিবার (৯ জানুয়ারি) নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিধি তৈরির শেষ দিন হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনও বিধি প্রকাশ করেনি।’
২০২১ সালের ২৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লিখিতভাবে লোকসভায় জানান, সংশোধনী আইনের বিধি তৈরির জন্য সময় বাড়িয়ে ৯ জানুয়ারি ২০২১ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়েছে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর। এ নিয়ে চার বার বিধি তৈরির জন্য সময় বাড়িয়েও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলো।
ড. মোহিত রায়ের মতে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রয়োগে এই ব্যর্থতা নেতৃত্বের প্রতি মানুষের অনীহা বৃদ্ধি করছে। দেশবিরোধী, আইন বিরোধী শক্তিগুলো ইতোমধ্যেই আবার রাস্তায় নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে।’
মোহিত বাবুর দাবি, একটি বিধি তৈরি আদৌ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার নয়। ২০২০ সালের প্রথমেই রাজ্য উদ্বাস্তু সেল একটি বিধি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এই আইনের ফলে যে উদ্বাস্তুরা উপকৃত হবেন তাদের ৮০ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গবাসী। গত বিধানসভা নির্বাচনে জনসভাগুলোতে বিজেপির কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতারা বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, অবিলম্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করা হবে। উদ্বাস্তুরা এজন্য তাদের সমর্থনও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অহেতুক বিলম্বের ফলে উদ্বাস্তুরা বিভিন্ন আইনি সমস্যায় পড়ছে। পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে শিক্ষাক্ষেত্রে, বিদেশে যাওয়া; সব ব্যাপারেই তারা বিপদে পড়ছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্নজন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের পক্ষে কোনও সদুত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি অপ্রত্যাশিতভাবে কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর উদ্বাস্তু সমাজ আজ এই আতঙ্কে ভুগছে যে, আদৌ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হবে কিনা। এ-ও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, চার বার সময় নিয়েও তা ব্যবহার না করায় আগামী দিনে লোকসভার কমিটি অন সাব-অর্ডিনেট লেজিসলেশন আদৌ আবার অতিরিক্ত সময় অনুমোদন করবে কিনা।’
উদ্বাস্তু আন্দোলনের সর্বভারতীয় নেতা ডা. সুবোধ বিশ্বাস বলেন, ‘২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বাস্তু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। ডিটেনশন ক্যাম্পে আজও হতভাগ্য হিন্দু বাঙালিরা বন্দি আছে। এনআরসি-তে লাখ লাখ উদ্বাস্তু বাঙালিদের তালিকা থেকে নাম কাটা গেছে। চলছে রাজনৈতিক প্রহসন। পশ্চিম পাকিস্তানের শরণার্থীরা ভারতে জামাই আদর পান। উদ্বাস্তু বাঙ্গালিদের নিয়ে এত ছলনা কেন? কংগ্রেস আন্তরিক ছিল না। বিজেপি-ও একই পথের পথিক। তারা কথা দিয়ে কথা রাখছে না।’
বার বার এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ মতুয়ারা। এমনটা জানিয়ে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক মহিতোষ বৈদ্য বলেন, ‘আমরা হতাশ। যদি সিএএ কার্যকর না হয়, তাহলে বড় রকমের ধোঁকা হয়ে যাবে মতুয়াসহ উদ্বাস্তুদের সঙ্গে। এই আইন কার্যকর হলে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। দেওয়া হবে। এতো বছর অপেক্ষার পর এটা খুবই লজ্জার। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিজেপিকে বিশ্বাস করেছিলাম। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমরা মতুয়ারা রেখেছি। কিন্তু ওরা এখন পর্যন্ত রাখেনি। সিএএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে সেটাই সত্যি হতে চলেছে। উনি মতুয়াদের জন্য কাজ করেছেন। আর আমরা বিজেপির কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি ছাড়া এখনও পর্যন্ত কিছু পাইনি।’









