নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়ে কৃষক হত্যা ছিল ভয়ানক ষড়যন্ত্র। এই পুলিশি অভিযান চাননি তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য! এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দিলীপ মিত্র।
এই নারকীয় অভিযানের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সিপিএমের একজন নেতা এবং একজন উচ্চকাঙ্ক্ষী গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এই দুই জনের চাপেই মূলত নন্দীগ্রামে পুলিশকে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার আরেক বিস্ফোরক দাবি, ‘বুদ্ধ বাবুকে চার বার খুনের চক্রান্ত হয়েছিল।’
একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ মিত্র বলেন, ‘নন্দীগ্রাম কাণ্ড ছিল ষড়যন্ত্রের ফসল। নন্দীগ্রাম কোনও এক রাজনৈতিক নেতার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। তার সঙ্গে একজন উচ্চকাঙ্ক্ষী ও বিবেকহীন গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন সমঝোতা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যসচিব প্রসাদ রঞ্জন রায় ও স্বরাষ্ট্র সচিব অমিতকিরণ দেব বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু ওই রাজনৈতিক নেতা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিলে ষড়যন্ত্র করে একটি নথি তৈরি করেন। সেটি ব্যবহার করা হয়েছিল দ্বিধাগ্রস্ত, অনিচ্ছুক বুদ্ধদেব বাবুকে পুলিশি অভিযানের নির্দেশ দিতে রাজি করাতে।’
সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা দিলীপ মিত্র আরও বলেন, ‘সিপিএমের কয়েকজন কট্টরপন্থী নেতা এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।’ ইতোমধ্যে নন্দীগ্রাম কাণ্ডে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর এক শ্মাশানের নীরবতা। সে সময় কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে।’
এই রাজনৈতিক নেতা কে? যার নাম উল্লেখ করেননি সাবেক গোয়েন্দাকর্তা দিলীপ বাবু। এ নিয়ে অল ইন্ডিয়া লিগ্যাল এইড সেলের সম্পাদক ও আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘ওই নেতার নাম লক্ষণ শেঠ। তার উসকানিতে পা দেন ওই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ছিলেন বুদ্ধ বাবুর সেই সময়ের চোখের মনি। তাকে দিয়ে এই পুলিশি অভিযানের প্ল্যান করানো হয়েছিল। সিপিএম নেতা অনিল বসু আর সুশান্ত ঘোষরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। যেদিন গুলি চলেছিল ১৪ মার্চ ২০০৭, তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী দিল্লিতে ছিলেন। তিনি প্রতি মুহুর্তের খবর নিচ্ছিলেন। বারবার করে মুখ্যমন্ত্রীকে বলছিলেন, গুলি যেন না চলে। রাজ্যপাল সকাল ৯টার ফ্লাইটে কলকাতা ফিরছিলেন। ওই সময় বিমানে থাকার কারণে দুই ঘণ্টার জন্য তার ফোন বন্ধ ছিল। যখন কলকাতায় নামেন ততক্ষণে পুলিশের গুলিতে নিরীহ ১৪ জন নিহত হয়েছে।’
জয়দীপ বাবু বলেন, ‘দিলীপ বাবু যদি এ বিষয়ে বলেন, তাহলে সব সত্য ঘটনা বলা দরকার। একটা অংশ বলে বুদ্ধ বাবুকে ক্লিনচিট দেওয়া মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। গুলি চালানোর ঘটনা সিপিএমের মতো দলে বুদ্ধ বাবুর একার সিদ্ধান্তে হতে পারে না। দলের সব নেতারাই এর সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, ওই সময়ের সরকারি আমলাদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা উচিত। আমার প্রশ্ন, বুদ্ধ বাবু গুলি চালানোর নির্দেশ দিলেন কী করে? আর দিলীপ বলেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বুদ্ধ বাবুকে চার বার খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল। আমার প্রশ্ন ওই সময়কালে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে তৎকালীন বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকে খুন ও খুনের চক্রান্ত করেছিল। সেই তথ্যগুলো দিলীপ বাবু প্রকাশ করুন।’









