একুশের বিধানসভা ভোট থেকে শুরু করে পরবর্তী ভোটগুলোতে উল্লেখযোগ্য ফল না পেলেও এখনও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের বিষয়ে আশাবাদী বিজেপি। যাই ঘটুক না কেন ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা আসবেই। শনিবার চিন্তন বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। দৃশ্য ভোকাল টনিক দিয়ে দলীয় নেতাদের চাঙা করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
চার পৌরনিগম ও ১০৮ পৌরসভার ভোটে হারের পর মনে করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে কলকাতার আলিপুরের জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত চিন্তন বৈঠকে ঝড় উঠতে পারে। কিন্তু কার্যত এমন কোনও ঘটনা এদিন ঘটেনি। বরং খুব সুকৌশলে সব কিছু ট্যাকেল দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে এগিয়ে চলার পরামর্শ দিলেন মুরলিধর সেন লেনের কর্তারা।
এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শাসক দলকে আক্রমণের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের বার্তা দিয়েছেন। কিছুটা আত্মসমলোচনার সুরে তিনি বলেন, ‘দল কোনও ব্যক্তির নয়! দল টিম ওয়ার্ক। সেই টিমের সিদ্ধান্ত কোনও সময়ে ভুল হয়, আবার কখনও ঠিক হয়। আমরা সাংগঠনিক দল। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি দল নিয়েছে মনে করতে হবে। সবাই মিলে আলোচনা করেই পথনির্দেশ ঠিক করব। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নেই। যারা এখানে বলার সুযোগ পাবেন না, তারা পরামর্শ লিখিতভাবে দেবেন। ওপরের নির্দেশ মেনে চলতে হয় দলে। সব সিদ্ধান্তই যে ঠিক হবে এমন কোনও বিষয় নেই।’
সাংগঠনিক ব্যর্থতা নয়, বরং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মাঠে নেমে তৃণমূলের মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। এমন দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে অলিখিত জরুরি অবস্থা চলছে। তৃণমূল করতেই হবে। সিপিএম করলে কিছু বলবে না, বিজেপি করলেই আক্রমণ নেমে আসছে। একে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি বলতে পারি না।’
তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের সমঝোতা হয়েছে। তাই বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান বিরোধী দলের জায়গা থেকে সরাতে রাজ্যে তৃণমূল বামেদের রাজনীতির মাঠে থাকতে দিচ্ছে শুধু নয়, ভোটের সময়ও সাহায্য করছে বলে অভিযোগ করেন সুকান্ত। তিনি দাবি করেন, ‘১০টা ছাপ্পা দেওয়া হলে ৮টা তৃণমূলের আর ২টা সিপিএমের, এটাই নতুন সমীকরণ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে।’
একের পর এক ভোটযুদ্ধে হারের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে চব্বিশের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে সুকান্ত বলেন, ‘সামনেই ধর্মযুদ্ধ রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা এখনও পূরণ হয়নি। আর তা সত্যি করতে এই ধর্মযুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মযুদ্ধে কেউ কাউকে আহ্বান জানায় না। এগিয়ে এসে লড়াইতে যোগ দিতে হয়।’
তৃণমূলের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর লড়াইয়ে কর্মীদের এগিয়ে আসার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এজন্য দলের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তার জন্য কর্মীদের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান সুকান্ত।
তিনি বলেন, ‘বিজেপিই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল, তাই বিজেপির কাঁধেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেকে বাঁচানোর দায়িত্ব। আপনারা ঠিক করে কাজ করলে দল ২০২৬-এ ক্ষমতায় আসবে।’









