রামপুরহাট কাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির দাবি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি মোদি সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু এখনই এই দাবিতে সায় দিচ্ছে না কংগ্রেস ও বামেরা। ফলে এ নিয়ে আপাতত একলা চলো নীতিতে এগোচ্ছে বিজেপি।
গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গে ২৬টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করে সংসদে কেঁদেছেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যসভা চেয়ারম্যানের কাছে তার করুণ আকুতি, ‘বাংলাকে বাঁচান।’
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এই অভিযোগ এনে ৩৫৬ ধারা অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করার হুমকি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সংসদে তিনি হুমকির সুরেই বলেছেন, ‘এমনভাবে রাজ্য চলতে থাকলে ৩৫৬ ধারা জারি করে সরকার ভেঙে দিতে বাধ্য হবে কেন্দ্র।’
শুধু তাই গত বিধানসভা ভোটের পর থেকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিজেপি রাষ্ট্রপতির শাসনের দিকে পশ্চিমবঙ্গেকে নিয়ে যেতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। বিজেপির মতোই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলে ভারতের সংসদে বাম-কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যেও এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে তারা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসনের যে দাবি বিজেপি তুলেছে তাকে এখনই সমর্থন করছে না বাম-কংগ্রেস।
রাজ্যে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জন্য তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই দায়ী, এমনটাই মনে করছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মুহম্মদ সেলিম বলেছেন,‘রাজ্যে যে অশান্তি, লুটতরাজ চলছে, তার জন্য তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপিও দায়ী। আর সব সময়ে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সোশ্যাল মিডিয়ার যুদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে শাসন ভার নিয়ে ৩৫৬ ধারা বলে রাজ্যপালের হাতে দিলেই সব ভালো হয়ে যাবে?’
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি লিখেছেন। রাষ্ট্রপতিকে পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ নয়, সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করার অনুরোধ করেছেন তিনি। অধীর চৌধুরী ওই চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে লিখেছেন, ‘আমি ২২ মার্চ সংসদে এই গুরুতর বিষয়টি উত্থাপন করেছি। পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ার বিষয়ে দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, গত মাসেই ২৬টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ভোটের সময় হিংসা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা অনেকের প্রাণ নিয়েছে। গোটা রাজ্য ভয় ও হিংসার কবলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে, আমি আপনাকে সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করার জন্য অনুরোধ করছি। যাতে পশ্চিমবঙ্গের সরকার সংবিধানের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়।’
রাষ্ট্রপতির শাসন জারির বিজেপির দাবিকে পেছনের দরজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা বলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেছেন, ‘একের পর এক নির্বাচনে হারার পর বিজেপি নেতাদের মনে হতাশা জন্মে গেছে। এখন কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে আস্ফালন ছাড়া আর কিছুই করার নেই তাদের। মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা চলছে। ভুলে গেছে, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তাছাড়া দেশে আইন আদালত আছে।’









