পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য উদ্বাস্তু সেল তুলে দেওয়া হয়েছে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে ফের বির্তক। তাহলে কী পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের জন্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-কে গুরুত্ব দিচ্ছে না মুরলিধর সেন লেনের কর্তারা? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের উদ্বাস্তু নেতারা।
গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি ২২টি নতুন ডিপার্টমেন্ট বা বিভাগের ইনচার্জ ও কো-ইনচার্জের নাম ঘোষণা করে। এই বিভাগগুলোর অনেকগুলোই নতুন। বিজেপির সংবিধানে মোর্চা ও সেল আছে, ডিপার্টমেন্ট বলে কিছু নেই। কিন্তু এতসব নতুন সাংগঠনিক ঘোষণার পরও উদ্বাস্তুদের জন্য কোনও ডিপার্টমেন্ট নেই। এই ঘোষণার পরই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলটির মধ্যে থাকা উদ্বাস্তু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের মনে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কিছু দিন আগেই মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এখনও দেশজুড়ে কার্যকর করতে না পারা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন তোলে রাজ্য বিজেপির উদ্বাস্তু সেল। তারপরই উদ্বাস্তু সেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শনিবার ঘোষিত নতুন ২২টি ডিপার্টমেন্টে উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কোনও ডিপার্টমেন্ট না ঘোষণার অর্থ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে চায় না। ফলে তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি বিজেপি আর গুরুত্ব দেবে না বলেই মনে হয়।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির সাবেক উদ্বাস্তু সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহিত রায় বলেন, ‘উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কোনও সেল রাজ্য বিজেপিতে যদি না থাকে তবে উদ্বাস্তুদের ভবিষ্যৎ সর্ম্পকে আমি উদ্বিগ্ন। কারণ আমাদের দলই সিএএ আইন করেছে।’
বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায় বলেন, ‘এই কাজটা ঠিক হয়নি। আমি রাজ্য নেতৃত্বকে পুর্নবিবেচনা করার আবেদন জানাচ্ছি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিষয়টি জানিয়েছে। উনি বলেছেন, মোহিত রায়সহ উদ্বাস্তু নেতাদের নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন।’
এভাবে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন পূর্বতন উদ্বাস্তু সেলের সহআহ্বায়ক সুজিত শিকদার। তিনি বলেন, ‘উদ্বাস্তু সেল তৈরির দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বর্তমান নেতৃত্ব সেটা হয়তো জানেন না। ২০০৫ সালে চেন্নাইতে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে প্রথম শরণার্থীদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব তোলেন তথাগত রায়। যা সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। এরই ধারাবহিকতায় উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ২০১৫ সালে তৎকালীন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাহুল সিনাহা উদ্বাস্তু সেল গঠন করেন। এর জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়। অধ্যাপক মোহিত রায়কে আহ্বায়ক করা হয়।’
সুজিত শিকদার বলেন, ‘এই ক’বছরে আমরা নাগরিকত্ব আন্দোলন যেমন করেছি মাঠে নেমে, তেমনই এ সংক্রান্ত বহু বই প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নিয়ে প্রতিবাদও করেছি আমরা। সিএএ আইন করা নিয়ে উনিশের লোকসভা ভোটে আমরা উদ্বাস্তু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচার করেছি। যার ফল বিজেপি পেয়েছে।’
ক্ষোভের সঙ্গে সুজিত শিকদার বলেন, ‘বর্তমান নেতৃত্বের উদ্বাস্তু সেলের কার্যকলাপ নিয়ে কোনও ধারণা নেই বলেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। মনে হচ্ছে তারা সিএএ কার্যকর করা নিয়েও আন্তরিক নন। দলের কাছে আমাদের একটাই দায়বদ্ধতা, শরণার্থীদের নাগরিকত্ব। আমরা এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানাবো। এটার শেষ দেখে ছাড়বো।’









