যথেচ্ছ খয়রাতি বন্ধ করতে হবে। নাহলে ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কা বা গ্রিসের মতো অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হতে পারে ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে। সেই তালিকায় আছে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, দিল্লির মতো রাজ্যও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মোদির সঙ্গে চার ঘণ্টার বৈঠকে কয়েকজন সচিব জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে যেভাবে খয়রাতি হচ্ছে, ভোটের আগে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে, তাতে ক্রমশ কোমায় চলে যাচ্ছে সেই রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা। এমন সব প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে চালু করা হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারেই কার্যকরী নয়।
এতে করে রাজ্যগুলোর কোষাগারের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছে সেই রাজ্যগুলো। অবিলম্বে সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
কোন কোন রাজ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে? সূত্র উদ্ধৃত করে ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, দিল্লি, তেলাঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্য সরকারের তরফে যে প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে, তা অর্থনৈতিক দিক থেকে বিপজ্জনক বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তাদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, খয়রাতির প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি রুপি ঢেলে দেওয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ কমছে। যা যে কোনও রাজ্যের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি কয়েকটি রাজ্য যদি ভারতের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তাহলে সেগুলোর অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতো।
এমনিতে ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল খয়রাতির প্রকল্প ঘোষণা করে থাকে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ইশতেহারে তেমন কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে বিনামূল্যে বিদ্যুতের মতো বিভিন্ন সুযোগ সুবিধারও ঘোষণা দেওয়া হয়ে থাকে। তাতে অবশ্য পিছিয়ে থাকে না বিজেপিও। চলতি বছর উত্তরপ্রদেশ ও গোয়ার ভোটের আগে খয়রাতি প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। যদিও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোর দাবি, কেন্দ্র প্রাপ্য টাকা দেয় না বলেই কোষাগারে চাপ বাড়তে থাকে। সেই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।









