ভারতের তামিলনাড়ুতে মহাকাশ থেকে পতিত উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনা যদি সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে তা দুইশ বছরের ইতিহাসে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হবে এটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভারতিদাসান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মাঠে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মাঠে একটি গর্ত সৃষ্টি হয়। ভেঙে পড়ে মাঠের পাশের ভবনের কাঁচের দেয়াল। বিস্ফোরণের সময় একজন বাসচালক সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় সেখানে ছিলেন আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে একজন মালি ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
তবে তদন্তকারীরা বোমা বিস্ফোরণের কোনও প্রমাণ পাননি। ফলে তারা ধারণা করছেন আকাশ থেকে কিছু পড়ে থাকতে পারে। এছাড়া ঘটনাস্থলে হিরার আকৃতির নীল রঙয়ের পাথর পাওয়াতে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের এ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জানিয়েছেন, কলেজ মাঠে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ভি. কামারাজ নামক ওই ব্যক্তি উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ১৮২৫ সালে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ওই মৃত্যুও ভারতে ঘটেছিল। ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলবামাতে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এক নারী আহত হয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা এটাকে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মৃত্যুর কথা বললেও ভারতের অনেক কর্মকর্তা এ দাবির ব্যাপারে বেশ সতর্ক। স্থানীয় এক জেলা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যখন বিস্ফোরণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি তখন ধারণা করা হয় এটা উল্কাপিণ্ড হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়। যে পাথর পাওয়া গেছে তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মঙ্গলবার ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব অ্যাস্ট্রোপিজিক্সি-এর সহযোগি অধ্যাপক সুজান সেন গুপ্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ছোট্ট উল্কাপিণ্ড মাটিতে পড়ে একজনকে মেরে ফেলবে- এটা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।
/এএ/








