ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমারা যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ভারত তখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোমবার রাশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারত ও রাশিয়া একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করছে। এই চুক্তি হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পশ্চিমারা ভারতকে দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরতে বললেও এফটিএ চুক্তি হলে রুশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়বে। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার জন্য তা হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
গত অর্থবছরে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৬.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এই আমদানির বেশিরভাগ ছিল তেলের মাধ্যমে।
নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ বলেছেন, আমাদের দেশের বাজারের পণ্যের উভয়ের প্রবেশগম্যতার বিষয়ে আমরা বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি। ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সঙ্গে মিলিত হয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান ইকনোমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্যের আলোচনা করোনা মহামারিতে বিঘ্নিত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আমাদের সহকর্মীরা বিষয়টিতে গতি আনবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে পার্থক্য গড়ে দেবে।
মান্তুরভ বলেছেন, সড়ক নির্মাণের উপাদান ও সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক ও ওষুধ পণ্যের চাহিদা রয়েছে রাশিয়ায়। আমি নিশ্চিত এটি ভারতীয় কোম্পানিগুলোর রাশিয়ায় তাদের সরবরাহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে।
এমন সময় এই ঘোষণা এলো যখন ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত।
গত বছর নভেম্বরে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, ভারতের কাছ থেকে পাঁচ শতাধিক পণ্য আমদানি করতে চাইছে রাশিয়া। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ি, উড়োজাহাজ, রেলের মতো খানের জন্য যন্ত্রাংশ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে মস্কো।
মান্টুরভ আরও বলেছেন, রাশিয়ার জাতীয় মুদ্রা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মুদ্রার ব্যবহার প্রসারিত করার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত রুপির মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী।
ইউক্রেনে আক্রমণকে রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে দাবি করে আসছে। পশ্চিমা ও ইউক্রেন এটিকে উসকানি ছাড়াই আগ্রাসী যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে রুশ আক্রমণের সমালোচনা করেনি ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে রাশিয়া-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও বাড়ছে।
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সামরিক সরঞ্জামের শীর্ষ উৎস হলো রাশিয়া। গত মাসে ইরাককে স্থানচ্যুত করে ভারতের অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে মস্কো৷ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে ভারত রাশিয়া থেকে খুব কম তেল কিনেছিল।
চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে চেষ্টা করছে রাশিয়া। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির এই চেষ্টা রাশিয়ার এই কৌশলের অংশ।









