টানা ৭ দিনের তীব্র আন্দোলন। ১০ জনের প্রাণহানি। আহত দেড় শতাধিক। দোকান, শপিং মল, বাস, গাড়ি থেকে শুরু করে থানা- উন্মত্ত আন্দোলনকারীদের অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত। অবশেষে ইতি ঘটলো এই আন্দোলনের।
সহিংস আন্দোলন তুলে নিল হরিয়ানার জাট সম্প্রদায়। রবিবার সম্প্রদায়টির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই আর আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।
চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের দাবিতে সম্প্রতি জাট সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে হরিয়ানায়। প্রভাব পড়ে রাজধানী দিল্লিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলে নানামুখী তৎপরতা। এর এক পর্যায়ে নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি আন্দোলন তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান জাট নেতা জয়পাল সিং।
জয়পাল সিং-এর সঙ্গে এক বৈঠকের পর বিজেপি নেতা অনিল জৈন জানান, বিধানসভার আগামী অধিবেশনেই জাট সংরক্ষণ বিল পেশ করা হবে। জাট সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছে হরিয়ানা সরকার।
এর আগে রবিবার নতুন করে হিংসার ঘটনা ঘটে ভিওয়ানি ও সোনিপত জেলায়। দুটি পুলিশ চৌকিতে আগুন লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া একাধিক দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে পানি সরবরাহের খালটি বন্ধ করে দেন। ফলে রাজধানীতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার দিল্লির সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানান, দিল্লিতে পানি শেষ। এর ফলে দিল্লির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হরিয়ানার মুনাক ক্যানেল থেকে এখানে পানি সরবরাহ হয়। জাট আন্দোলনের কারণে সেই খাল দুই দিন ধরে বন্ধ। তবে যে পরিমাণ পানি মজুদ আছে, তা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমানভাবে বন্টন করে দেওয়া হবে।
বন্ধ করে দেওয়া পানি সরবরাহের পথ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হরিয়ানা রাজ্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এমপি/বিএ/








