ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে ডিজিটাল করতে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ নীতি ঘোষণা করেছেন। এমনকি গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় বলছেন। অথচ কিছু দিন আগে মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের একটি গ্রামে নিয়ম করা হয়েছে, কোনও কিশোরী বা অবিবাহিত নারীর হাতে মোবাইল দেখলেই জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার পরিমাণ ২১০০ রুপি। যিনি মোবাইল ব্যবহারের খবর দেবেন গ্রামের মাতবরকে তিনিও নগদ পুরস্কার পাবেন ২০০ রুপি।
সম্প্রতি এ নিয়ম চালু হয়েছে গুজরাটের মেহসানা এলাকার সুর্য নামের একটি গ্রামে। গ্রামসভায় মোড়লদের মতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।
চলতি মাসের শুরুর দিকে গ্রামসভার বৈঠকটি কিন্তু ডাকা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। পুরুষরা মদ খেয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করেন। দিন দিন বাড়ছিল এমন ঘটনার সংখ্যা। কিন্তু, আলোচনা শুরু হওয়ার পরে তা মোড় ঘুরে যায়। পুরুষের অত্যাচারের বিহীত করতে শুরু হওয়া আলোচনা ঘুরে যায় নারীদের মোবাইল ব্যবহারের দিকে। দীর্ঘ আলোচনার পর গ্রামের প্রধান সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।
গ্রাম প্রধান জানান,পুরুষের মদ্যপানের মতো নারীদের মোবাইল ব্যবহারও ‘খুব খারাপ’ কাজ। এতে সমাজের ক্ষতি হয়। কিশোরীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নারীদের ঘরের কাজে মনোসংযোগও সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় মোবাইল। তাই ‘নষ্টামি’ রুখতে গ্রামের অবিবাহিত সব নারীদের ক্ষেত্রেই মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
গ্রাম প্রধান দেবশি ভানকর বলেন,‘মোড়লদের মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুলছাত্রদেরও জন্য খুব শিগগিরই এমন একটা নিয়ম করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রাম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই চালু হয়ে গিয়েছে ওই নিয়ম। যদিও অবিবাহিত মহিলারা তাদের বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইল ব্যবহার করে কেবলমাত্র ‘কথা’ বলতে পারবে। অন্য কোনও কাজে তা কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
পুরুষদের অত্যাচার নিয়ে সভা ডেকে কী ভাবে মহিলাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করা হল, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যের একটি গ্রামে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিতর্ক অন্য মাত্রাও পেয়েছে। ঘটনাচক্রে যে মেহসানায় এই নিয়ম করা হয়েছে, তারই এক মফস্বল শহর ভাডনগরেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি।সূত্র: আনন্দবাজার।
/এএ/








