হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজপথ। প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও রাহুল গান্ধী।
ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে, রোহিত ভেমুলার ছবি আঁকা টি-শার্ট পরে দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদ মিছিলে জড়ো হয়েছেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) শিক্ষার্থীরাও। শুধু রোহিত নয়, মিছিল থেকে প্রতিবাদ জানানো হয় জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারের গ্রেফতারেরও। রোহিতের বাবা-মাও ওই ‘দিল্লি চলো’ প্রতিবাদ মিছিলে যুক্ত হন।
মিছিল শেষে সমাবেশে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘দেশের সরকার ছাত্রদের সঙ্গে যেন যুদ্ধে নেমেছে। এই ধরনের আচরণ একদমই কাম্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (শিক্ষার্থী) বাক স্বাধীনতা রয়েছে। যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অধিকার আমাদের রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লড়াই থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা ঐক্যবদ্ধ হলে আপনার ক্ষমতাও নড়ে যাবে। যা আপনি কখনওই ভুলতে পারবেন না।’ রোহিত ভেমুলার হত্যার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও দায়ী করেন কেজরিওয়াল।
এর আগে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন। রোহিত ভেমুলা ও কথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কানহাইয়া কুমারের ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, ‘বিজেপি সরকার জাত-পাত প্রথাকে উস্কে দিয়ে মানুষদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।’
প্রতিবাদ মিছিলে আসা এক নারী আন্দোলনকর্মী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এমন আরও লাখ লাখ রোহিত ভেমুলা, দলিত ও নারীদের জন্য; যাদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারটুকুও নেই।’
প্রতিবাদকারীরা রোহিতের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় মানবসম্পদমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তত্রেয়াকে অভিযুক্ত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর রোহিতকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩-এর মুম্বাই হামলার মূল অভিযুক্ত ইয়াকুব মেমনের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় চত্বরে বিক্ষোভকালে বিজেপি প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্বেদকার ইউনিয়নের সদস্য রোহিত ও তার সতীর্থদের বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি রোহিতদের নির্দোষ হিসেবে উল্লেখ করে। কিন্তু পরে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মন্ত্রী দত্তত্রেয়াই চিঠি লিখে স্মৃতি ইরানিকে জানান, ওই বিশ্বাবিদ্যালয় জাতিবাদের আখড়া হয়ে উঠেছে। চরমপন্থী ও জাতীয়তাবাদবিরোধী হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ।
এর পরেই গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রোহিতসহ পাঁচ কৃতি ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে বের করে দেয় প্রশাসন। শুধু হোস্টেলই নয়, ক্লাসরুম ও গবেষণাগার বাদে বিশ্ববিদ্যায়ের অন্যান্য জায়গাতেও তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়। হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার পর তারা কয়েকদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেটের বাইরে তাঁবু খাটিয়েও থেকেছেন। বার বার অনুরোধ করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কথা বলতেও রাজী হয়নি। এক পর্যায়ে এই অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রোহিত আত্মহত্যা করেন বলে রোহিতের বন্ধুরা জানিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এসএ/এএ/








