পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী বাংলাদেশি জাহাজ আগামী দিনে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে মমতা প্রশাসনের কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে হলদিয়া থেকে ফ্লাই অ্যাশ নিয়ে একটি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ মুড়িগঙ্গা নদীতে সাগর দ্বীপের কচুবেড়িয়া জেটি ঘাট থেকে বেশ কিছুটা দূরে ডুবে যায়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘদিন। কিন্তু ওই পণ্যবাহী জাহাজটি আজও মুড়িগঙ্গা নদী থেকে তোলার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে কচুবেড়িয়ার ওই অঞ্চলের দিকে নতুন করে পলি জমতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর, ওই জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া নাবিকেরা দীর্ঘদিন ধরে সাগরে ছিলেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা বাংলাদেশে ফিরে যান। কিন্তু ডুবে যাওয়া জাহাজটি আজও পর্যন্ত মুড়িগঙ্গা নদীতেই রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, জাহাজটি নদী থেকে তোলার জন্য বিভিন্ন দফতরে জানানো হয়েছিল, কিন্তু আজও পর্যন্ত ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়নি।
তবে ২০২৪ সালের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি বৈঠকে জেলাশাসকের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন মন্ত্রী। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ বছর ডুবে যাওয়া জাহাজের অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করা হবে। মূলত মুড়িগঙ্গা নদীর চ্যানেল দিয়ে নৌযান যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে কোনও না সমস্যা হয়, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাহাজটি মুড়িগঙ্গা নদীর ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ডুবে থাকার কারণে, ওই এলাকায় পলি জমতে শুরু করেছে। যা আগামী দিনে প্রশাসনের নতুন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই বিষয়ে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতদিন পর্যন্ত মুড়িগঙ্গা নদীর লট নম্বর ৮ - এর জেটি ঘাটের দিকে পলি জমতো। কিন্তু কচুবেড়িয়ার জেটি ঘাটের দিকে কোনও পলি জমতো না। এই জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর থেকেই কচুবেড়িয়ার জেটি ঘাটের দিকে নতুন করে পলি জমিতে শুরু করেছে।
এদিন গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি বৈঠকে নদী থেকে জাহাজটি তোলার বিষয় নিয়ে সাময়িক আলোচনা হয়। কিন্তু বর্তমানে ডুবে যাওয়া ওই জাহাজের ওপর প্রচুর পলি জমে যাওয়ার কারণে, জাহাজটি নদী থেকে এখন তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ব্যাপক বেগ পেতে হতে পারে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।









