আইনের মধ্যে থেকে রাজ্যপাল স ভি আনন্দ বোস সম্পর্কে যে কোনও বিবৃতি দিতে পারবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের করা মানহানির মামলায় শুক্রবার ( ২৬ জুলাই) এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, মন্তব্য করার সময় মনে রাখতে হবে, সেটা যেন মানহানি সম্পর্কিত যে আইন আছে তাকে লঙ্ঘন না করে।
তবে তিনি এও বলেছেন, কারও বাকস্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। যদিও এই বাকস্বাধীনতার কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সত্যি জানার অধিকার সবার আছে। তবে তবে এই সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বা উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল থাকতে হয়।
বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, একজন মানুষের মর্যাদা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং পবিত্র বিষয়। সেটা রক্ষা করার জন্য আইনে সংস্থান রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপ-নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করা নিয়ে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতার মধ্যে বাকযুব্ধ শুরু হয়। রাজ্যপাল চাইছিলেন রাজভবনে এসে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করুক। মুখ্যমন্ত্রী চাইছিলেন শপথ গ্রহণ হোক বিধানসভা ভবনে।
এসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজভবনের যা কীর্তিকলাপ চলছে, সেখানে যেতে মেয়েরা ভয় পাচ্ছে।
মমতার এমন মন্তব্যের জেরে, মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের বিধায়ক অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রেয়াত হোসেন সরকার ও তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন রাজ্যপাল।
সেই মামলায় গত ১৬ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন, আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর মন্তব্য করতে পারবেন না অভিযুক্তরা।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।








