হত্যা করে বাড়ির নিচে দাফন, ৩৪ বছর পর সামনে এলো ভয়াবহ সত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ মে ২০২৬, ২০:১১আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ২০:১১

সুদীর্ঘ ৩৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক খুনের রহস্য উন্মোচন করলো আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি)। ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়া ফারজানা দোশু রাধানপুরী ওরফে শবনমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি বাড়ির ১৪ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল আমদাবাদের ভাটভা এলাকার কুতুবনগরের একটি বাড়ি থেকে ফারজানা ওরফে শবনমের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিবার তাদের বাড়িতে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়ানোর জন্য বিশেষ আচার পালন করছে, এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এরপর একটি পুরনো ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ২৯ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক দলের উপস্থিতিতে কুতুবনগরের ওই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে মানুষের হাড়, দাঁত ও চুল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পুলিশ মুম্বাই ও ধোলকা থেকে ফারজানার ভাই ও বোনকে খুঁজে বের করে। তাদের রক্তের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হাড়ের ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর গত ৮ মে ফরেনসিক বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি নিখোঁজ ফারজানারই দেহ। এরপরই পুলিশ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে।

পুলিশ এই ঘটনায় মোট চারজনকে অভিযুক্ত করেছে, তাদের মধ্যে দুইজন জীবিত এবং দুইজন মৃত।শামসুদ্দিন মুসাজি খেদাওয়ালা ও ইকবাল মুসাজি খেদাওয়ালা, এই দুই ভাই বর্তমানে জীবিত এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে,আবদুলকরিম ইয়াকুবজি জাওরাওয়ালা, যিনি অভিযুক্তদের বন্ধু বলে পরিচিত তিনি বর্তমানে মৃত। আরেকজনের নাম সালিয়া বিবি সামাতখান পাঠান, যিনি ওই বাড়ির মালিক তিনিও বর্তমানে মৃত। 

তদন্তে জানা গেছে, সালিয়া বিবি মৃত্যুর আগে বাড়িটি দুই ভাগে ভাগ করে তার ছেলে ও মেয়েকে দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ফারজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিরে পুঁতে রাখা হয়েছিল। 

আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি) জীবিত দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, আলামত নষ্ট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মৃতদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ রিপোর্ট দাখিল করা হবে জানিয়েছে ডিসিবি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

/এএস/
সম্পর্কিত
প্রেমের গল্প থেকে রাজকীয় প্রাসাদ, ইতিহাসের শহর মান্ডুতে ঘুরে আসুন
দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধস, আটকা পড়ার শঙ্কা বহু শিক্ষার্থীর
‘এক ডলারের ক্ষতির বিপরীতে বহুগুণ মাশুল গুনবে যুক্তরাষ্ট্র’
সর্বশেষ খবর
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ
শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান
শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: নতুন উত্তেজনা এবং শান্তির কঠিন পথ 
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: নতুন উত্তেজনা এবং শান্তির কঠিন পথ 
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সর্বাধিক পঠিত
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
লংমার্চের গাড়িবহরকে লালকার্ড দেখালেন তিনি
লংমার্চের গাড়িবহরকে লালকার্ড দেখালেন তিনি