ভারতে প্রথমবার ‘জিহাদি ড্রাগ’ উদ্ধার, নেপথ্যে কারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মে ২০২৬, ১২:২৭আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১২:২৭

ভারতে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের এক চালানে জব্দ করা হয়েছে জিহাদি ড্রাগ বা গরিবের কোকেন হিসেবে পরিচিত মাদক ‘ক্যাপ্টাগন’। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রেজপিল’-এর আওতায় গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া  টুডে এ খবর জানিয়েছে।

অমিত শাহ জানান, জব্দকৃত এই মাদকের চালানটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এই ঘটনায় একজন সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেন, মোদি সরকার মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে বদ্ধপরিকর। আমাদের সংস্থাগুলো প্রথমবারের মতো তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

জিহাদি ড্রাগ বা ক্যাপ্টাগন মূলত একটি অত্যন্ত আসক্তিনির্ভর উত্তেজক মাদক, যা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার আলোচনায় এসেছে। সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় সশস্ত্র ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে, ভয় কমাতে এবং সক্রিয় থাকতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতো। এই কারণেই মাদকটি বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এছাড়া উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় একে গরিবের কোকেনও বলা হয়।

গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চালানটি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে সেখানে লড়াইরত যোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হতে পারতো।

ক্যাপ্টাগন মূলত ১৯৬০-এর দশকে মনোযোগের অভাব (অ্যাটেনশন ডিসঅর্ডার) ও নার্কোলেপ্সির চিকিৎসার জন্য ‘ফেনিথাইলাইন’ নামে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভয়াবহ আসক্তির কারণে ৮০-এর দশকে অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ একে সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স কনভেনশনে এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে কালোবাজারে যে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়, তা আদি রূপের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই মাদকে অ্যাম্ফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথামফেটামিনসহ নানা সিন্থেটিক রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাদকের সামান্য মাত্রাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে চরম আগ্রাসন, সহিংস আচরণ এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে।

 

/এএস/
সম্পর্কিত
প্রেমের গল্প থেকে রাজকীয় প্রাসাদ, ইতিহাসের শহর মান্ডুতে ঘুরে আসুন
দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধস, আটকা পড়ার শঙ্কা বহু শিক্ষার্থীর
‘এক ডলারের ক্ষতির বিপরীতে বহুগুণ মাশুল গুনবে যুক্তরাষ্ট্র’
সর্বশেষ খবর
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ
শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান
শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: নতুন উত্তেজনা এবং শান্তির কঠিন পথ 
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: নতুন উত্তেজনা এবং শান্তির কঠিন পথ 
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সর্বাধিক পঠিত
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
লংমার্চের গাড়িবহরকে লালকার্ড দেখালেন তিনি
লংমার্চের গাড়িবহরকে লালকার্ড দেখালেন তিনি