পশ্চিমবঙ্গের দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় এক মোড়। দল থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতা হুমায়ুন কবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ফেরার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও গত এক বছর ধরে তিনি মমতা ও তার সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবির জানান, তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আসন থেকে বিধানসভায় ফিরতে পারেন।
কবির সাংবাদিকদের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আমার কাছে আসেন, আমি রেজিনগর থেকে তাকে বিধানসভায় পাঠাতে পারি। তিনি যদি নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচন করেন, তিনি জিতবেন না। কিন্তু চাইলে আমি পদত্যাগ করে আমার আসন থেকে তার জয় নিশ্চিত করব।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর এই দুই আসনেই জয়ী হন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তাকে একটি আসন ছাড়তে হবে, ফলে একটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার বাইরে থাকায় এবং হাউজে প্রবেশ করতে উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখেছেন, যেখানে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে পরাজিত করেছিলেন।
হুমায়ুন কবিরে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন, পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এজেইউপি গঠন করেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম কড়া সমালোচকে পরিণত হন। এমনকি তিনি অতীতে বাংলায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদের প্রতিরূপ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও শিরোনামে এসেছিলেন।
তবে বর্তমানে তার সুর কিছুটা নরম দেখা গেছে। কবির বলেন, আজ মমতা যে অবস্থায় আছেন, তা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি আজ যা, তার জন্য তিনি অনেকটা দায়ী। এখন কেউ হয়তো তার কথা শুনছে না, কিন্তু রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরই শেষ কথা।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে









