এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এবার ভারতের চণ্ডিগড়ে ডিসকোকে দেশবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ডিসকো পার্টিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে শর্ট স্কার্টস পরা। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দেওয়া ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছে, শর্ট স্কার্টস পরা থেকেই দেশবিরোধী মনোভাবের জন্ম হচ্ছে।
এরআগে ভারতের গোয়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক মিত্র মহারাষ্ট্রবাদী গোমনাতাক পার্টির সদস্য সুধিন ধাবালিকর বলেছিলেন, শর্ট স্কার্টস পরে মেয়েদের পানশালায় যাওয়া ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ না। আর গত শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী এক তরুণীকে শর্টস পরায় যৌন হয়রানি ও হামলার মুখে পড়তে হয়। সেই ধারবাবাহিকতায় এবার চণ্ডিগেড় শর্টস নিষিদ্ধ হলো। ডিসকোকে আখ্যা দেওয়া হলো দেশবিরোধী।
আরও পড়ুন: নারী শিক্ষকের সঙ্গে করমর্দনে দুই মুসলিম কিশোরের অস্বীকৃতি
চণ্ডিগড়ের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কন্ট্রোলিং অব প্লেসেস অব পাবলিক অ্যামিউজমেন্ট, ২০১৬ নামের এক আইনের আওতায়। ওই আইনে বলা হয়েছে, নারীদের খাটো পোশাক পরা অথবা যে কোনও ধরনের অশোভন আচরণের কারণে ডিসকোগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নতুন ওই আইন ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আইন অনুসারে চণ্ডিগড়ের বারগুলো রাত ২টার পরিবর্তে ১২টার আগেই বন্ধ করতে হবে। আইনে বার মালিকদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে গঠিত একটি কমিটিকে ব্যাপক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন, ডেপুটি কমিশনার, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কমিশনার, চণ্ডিগড়ের পুলিশের এসএসপি, স্বাস্থ্য সেবার ডিরেক্টর ও কর কমিশনার। এই কমিটি চাইলে বারের লাইসেন্স নবায়নের আবদেন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। এই কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদি বার মালিকরা সংক্ষিপ্ত পোশাক পরা নারীদের প্রবেশ, অশ্লীলতা, রাষ্ট্রবিরোধী ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড বন্ধ না করেন তাহলে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।
আরও পড়ুন: কোহিনূর নিয়ে ভারতের সুর বদল!
কমিটির এ সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সংক্ষিপ্ত পোশাক, অশ্লীলতা ও রাষ্ট্রবিরোধিতার সংজ্ঞা আসলে কী। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্য টুইটারে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকেই। বিপুল দুয়া নামে এক বার মালিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, প্রায় দশ বছর ধরে তিনি বার চালাচ্ছেন। কখনওই শহরের কোনও বার বা রেস্তোরাঁতে এধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কিছু ঘটেনি। সূত্র: হাফিংটন পোস্ট।
/এএ/বিএ/








