ইরাকে হামলার চালানোর আগে গ্রেফতার আত্মঘাতী শিশু বোমা হামলাকারীকে মুখোশ পরা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছিল। ১২ বছরের ওই ছেলে পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছে। তার দাবি, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর তার কোমরে বিস্ফোরণের বেল্ট পরিয়ে দেওয়া হয়।
রবিবার ইরাকের কিরকুকে আত্মঘাতী বোমা হামলার চালানোর আগমুহূর্তে ১২ বছর ওই শিশুকে আটক করে পুলিশ। শিশুটির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তার কোমরে বিস্ফোরণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। শিশুকে আটকের পুলিশ দাবি করেছিল, ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাকে আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করে মাঠে নামিয়ে থাকতে পারে।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য সংবাদ মাধ্যমকে জানান, কিরকুকের জন্য রাতটি বিপদজ্জনক হতে পারতো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত কিশোর স্বেচ্ছায় আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য কোমরে বিস্ফোরক বোঝাই বেল্ট পরেছিল নাকি আইএস তার মগজ ধোলাই করে এই পথে নামিয়েছে নাকি তাকে বাধ্য করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
ইরাকের ওই কিশোরকে নিরস্ত্র করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী। ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটির শরীর থেকে জামা খুলে যখন কোমর থেকে বিস্ফোরক বোঝাই বেল্টটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল তখন শিশুটিকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পরে বিস্ফোরকভর্তি বেল্টটি খুলে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
কিরকুকের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফাধিল হুমাদি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি দাবি করেছে, তাকে অপহরণ করে তার কোমরে বিস্ফোরক বেল্ট পরিয়ে দেয়। এরপর তাকে ওই এলাকায় নামিয়ে দেয় অপহরণকারীরা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ছেলেটি আইএস নিয়ন্ত্রিত মসুলে বাস করত। এক সপ্তাহ আগে কিরকুকে আসে। পুলিশ তার নাম জানতে পেরেছে।
ছেলেটিকে আটকের কয়েক ঘণ্টা আগে কিরকুকের একটি শিয়া মসজিদের সামনে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। আইএসের মুখপত্র বলে পরিচিতি আমাক বার্তা সংস্থা মসজিদে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে আটক ছেলেটি সম্পর্কে কোনও বক্তব্য তারা দেয়নি।
শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানিয়েছিলেন, দেশটির একটি বিয়েবাড়িতে হামলায় ৫১জন নিহতের ঘটনায় বোমা হামলাকারীর বয়স ১২ বছর। পরে অবশ্য এ দাবি থেকে সরে আসে তুরস্ক। বোমা হামলায় নিহতের অর্ধেকেরও বেশি ছিল শিশু।
সম্প্রতি ইরাক, সিরিয়া ও নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য শিশুদেরকেই বেশি ব্যবহার করছে আইএস। চলতি বছরের ২৫ মার্চ বাগদাদের দক্ষিণের এক স্টেডিয়ামে তরুণদের ফুটবল ম্যাচে ভয়াবহ বোমা হামলায় ২৯ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়। স্টেডিয়ামে বোমা হামলাকারীও একজন কিশোর বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছিল। তাদের ছবি অনুযায়ী হামলাকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি হবে না। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
শিশুর কোমর থেকে বোমা উদ্ধারের ভিডিও:
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
/এএ/








