লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদে পদত্যাগ নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে এবার দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির অভিযোগ, লেবাননে ব্যাংকগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব অনেক বেশি। এ জন্য ব্যাংকগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রোমে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ভূমধ্যসাগরীয় সংলাপ। এতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিল আল জুবেইর বলেন, ‘এ অঞ্চলে ইরানের নেতিবাচক প্রভাব বোঝা খুব সহজ।’
সৌদি আরবের লেবাননকে অর্থনৈতিক হুমকির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, কিছুদিন আগেও কাতারের মতো বৈরুতের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চেয়েছিল সৌদি আরব । তবে লেবাননের অর্থনীতিবিদরা বলেন, উপসাগরীয় আমানত প্রত্যাহার করা লেবাননের ব্যাংকগুলোর জন্য যতটা ক্ষতি করবে বলে সৌদি আরব ভাবছে ততটা ক্ষতি হবে না। কারণ এ আমানতের পরিমাণ লেবাননের ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিক্রম করেনি।
লেবাননের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হয়েছে। লেবাননের ব্যাংকগুলোর সংগঠনের সাবেক প্রধান ফ্রান্সিসকো বাসিল বলেন, স্থানীয় ব্যাংকগুলো বিশেষ করে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বদ্ধপরিকর।’ তিনি বলেন, ‘এভাবে যখন-তখন কোনও অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।’
গত ৪ নভেম্বর সৌদি আরব সফরে গিয়ে এক টেলিভিশন বক্তব্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি ইরান ও হিজবুল্লাহকে দোষারোপ করেন। তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন সৌদি আরব তাকে আটক করেছে এমন অভিযোগ তুলে হারিরি পদত্যাগ গ্রহণ করেননি। এরপর হারিরি ২২ নভেম্বর দেশে ফিরে পদত্যাগ স্থগিতের ঘোষণা দেন।








