জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি বিশ্বের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের জন্য ‘অপমানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর এ তথ্য জানিয়েছে।
পশ্চিমতীরের বেথেলহেমে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেরুজালেমের গ্রিক অর্থডক্স আর্চবিশপ আতাল্লাহ হান্না বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান ও মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করছি। এই ঘোষণা আমাদের জনগণ ও আমাদের মুক্তি আন্দোলনের প্রতি অপমানজনক’।
হান্না আরও বলেন, ‘জেরুজালেমকে সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ও মুসলিমরা সবচেয়ে পবিত্র, আধ্যাত্মিক ও জাতীয় ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সবার জন্যই অপমানজনক।’
সংবাদ সম্মেলনে হান্না এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের জন্য ‘ভয়ংকর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র (জেরুজালেমের) দখল দিয়েছে যার কোনও অধিকার তাদের নেই। জেরুজালেম শহরকে আমরা আমাদের রাজধানী আর পবিত্র স্থানগুলোর প্রাণকেন্দ্র মনে করি।’
হান্না আরও বলেন, পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের মুসলিম-খ্রিস্টান সব ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল বলপ্রয়োগ করেছে। আমরা সবাই আল আকসা মসজিদকে রক্ষায় এক হয়েছি, আমরা খ্রিস্টীয় সম্পত্তি রক্ষায়ও ঘুরে দাঁড়াব। ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন শেষ করে দেওয়ার ট্রাম্পের নতুন ঔপনিবেশিক প্রকল্প আমরা সবাই মিলে বন্ধ করব।’
জর্ডানের ইভানগেলিকাল লুথেরিয়ান চার্চ ও পবিত্র ভূমির বিশপ মুনিব এ ইউনান বলেন, জেরুজালেম ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি এই তিনটি ধর্মের রাজধানী। এটা দুটি দেশের জনগণেরও রাজধানী। ইভানগেলিকাল লুথেরিয়ান চার্চ জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদার যেকোনও ধরনের পরিবর্তনের বিপক্ষে বলে জানান তিনি। মুনিব বলেন, ‘কেউ এটা (জেরুজালেমের মর্যাদা) পরিবর্তনের চেষ্টা করলে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নিবে।’
ফ্রান্সিসান ধর্মযাজক ফাদার ইব্রাহিম ফিলতিস জানান, জেরুজালেমেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্বের মনযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের বিজয়। এটাই মূল এবং সব দ্বন্দ্বের শিকড়।’
বেথেলহেমের গভর্নর জেবরান বাকরি তার বক্তব্যে ফিলিস্তিন অঞ্চলের ১৪টি চার্চ জেরুজালেম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পবিত্র শহরটির মর্যাদাকে সমর্থন করার পরিবর্তে ইসরায়েলকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে শান্তি প্রক্রিয়ায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেব না।’
জেরুজালেম মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূলকেন্দ্র। দখলদার ইসরায়েল একে তাদের রাজধানী হিসেবে পেতে চায়। আর ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী মনে করে। ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরিবর্তিত জেরুজালমনীতি ঘোষণার পর থেকে ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ জারি রয়েছে। মুসলিম বিশ্বসহ বিশ্বের বড় বড় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে পাস না হলেও সাধারণ অধিবেশনে প্রায় একচেটিয়াভাবে পাস হয়। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮টি ও বিপক্ষে মাত্র ৯ ভোট পড়ে।








