সৌদি আরবের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল এনেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। শনিবারে জারি করা ফরমানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন শ্রম মন্ত্রী। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান গঠন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে ওই রাজকীয় ফরমানে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দেশটির বিশাল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতেই নেওয়া হয়েছে এই নতুন উদ্যোগ। সৌদি বাদাশাহর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় পেয়েছে নতুন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া শুরা কাউন্সিলে নিয়োগ করা হয়েছে নতুন সহসভাপতি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যবসায়ী আহমেদ বিন সুলেইমান আল রাজিকে শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ফরমানে। এর আগে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আলি বিন নাসের আল ঘাফিস। সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের বিষয়টি দেখভাল করেন। বিশাল সংখ্যক তরুণের জন্যয় কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাটা তার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। সৌদি আরব মনে করে, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে তা বেকারত্ব লাঘবের বিষয়ে সহায়ক হবে। বর্তমানে সৌদি আরবে বেকারত্বের হার ১২.৮ শতাংশ। শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বেকারত্বের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সৌদি আরব ২০২২ সালের মধ্যে ১২ লাখ নতুন চাকরি তৈরি করতে চায়।
সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বেসরকারি খাতের ব্যক্তিদের হাতে সৌদি আরবের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর আগে একইভাবে আবাসন মন্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পাওয়া আল রাজি সৌদি চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন আব্দুল্লাতিফ বিন আব্দুলাজিজ বিন আব্দুলরাহমান আল আল শেইখকে, যিনি শরিয়া পুলিশের প্রধান ছিলেন। অপরদিকে শুরা কাউন্সিলের সহসভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মোতানি।
নতুন ফরমানে তথ্য মন্ত্রণালয় ভেঙে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থাপনেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। ‘জেনারেল কালচার অথরিটি’ নামের সংস্থার প্রধান হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ দেওয়া প্রিন্স বদর বিন বাদুল্লাহ বিন মোহাম্মেদ বিন ফারহান আল সৌদকেই নতুন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে দেশটির ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পর্যটনের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে গঠিত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাছাড়াও, যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ‘সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রুপেরও’ প্রধান ছিলেন তিনি।
বাদশাহ সালমান পরিবেশ সংরক্ষণ ও মক্কা নগরীর জন্য নতুন দুইটি কমিশন এবং লোহিত সাগরের পাড়ে অবস্থিত জেদ্দা শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজমের প্রচারণার জন্য ৬টি স্থান নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছে সৌদির সরকারি সংবাদমাধ্যম। প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ওই প্রক্ল্পভুক্ত।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকীয় ফরমান বলে স্বরাষ্ট্র, টেলিযোগাযোগ, যোগাযোগ ও জ্বালানি এবং শিল্প ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের জন্য নতুন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘রয়্যাল কমিশন ফর জুবাইল অ্যান্ড ইয়ানবু’ এবং কিং ‘আব্দুল্লাহ সিটি ফর অ্যাটমিক অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জির’ জন্য নতুন প্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







