২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলায় রিয়াদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ভয়াবহ বিপাকে পড়েছিল সৌদি আরব। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খাশোগির হত্যার ঘটনাটি সৌদি আরবের জন্য সেই ৯/১১ পরবর্তী সময়ে ‘সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিপর্যয়’। তাদের ধারণা, মার্কিন প্রশাসনের সহায়তায় এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। তবে তুরস্ক রিয়াদের ‘বানানো গল্প’ মেনে নেবে না।
২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলায় বিমান অপহরণকারীদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল সৌদি আরব থেকে এবং বারবার এমন সন্দেহ করা হয়েছে যে তাদের সাথে সৌদি সরকারের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল। ২০১৬ সালে নাইন ইলেভেনের হামলা নিয়ে ২৮ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিমান ছিনতাই করে চালানো ৯/১১ হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জন হামলাকারী সৌদি আরবের নাগরিক। দোহাভিত্তিক ‘আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের’ গবেষক মারওয়ান কাবালান মন্তব্য করেছেন, খাশোগির হত্যাকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে সৌদি আরবের জন্য।
গত ২ অক্টোবর খাশোগি নিখোঁজের পর থেকেই সৌদি আরব দাবি করে আসছিলো, তিনি ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশটি স্বীকার করে, খাশোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটর দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা খাশোগিকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার জন্য সাধারণ নির্দেশনা জারি ছিল। যখন খবর আসে ২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তানবুল কনস্যুলেটে যাবেন বিয়ের জন্য কিছু নথিপত্র নিতে তখন জেনারেল আসিরি ১৫ সদস্যের একটি দল পাঠান এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলোচনা করতে। সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়। আর তাতেই খাশোগির মৃত্যু হয়। গবেষক মারওয়ান কাবালান সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘বেশিরভাগ মানুষের কাছেই সৌদি ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা বিশ্বাস করা খুবই কষ্টকর যে হিট স্কোয়াডটি তুরস্কে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে গিয়েছিল খাশোগির সঙ্গে আলোচনার করতে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সৌদি ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট। তবে কাবালান মনে করছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় তারা এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার আশা করছে। তবে আমি মনে করি না তা এত সহজ হবে।’
তুরস্ক শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলো, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। তুর্কি ও মার্কিন তদন্ত সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। কাবালানের মন্তব্য, ‘তুরস্ক সৌদি আরবের বানানো গল্প মেনে নেবে না এত সহজে। দূতাবাসে কী হয়েছিল সে বিষয়ে তাদের কাছে ভিন্ন বিবরণ রয়েছে।’








