যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আরব উপসাগরীয় দেশ কাতার ও তার বিরুদ্ধে অবরোধ ডাকা বাকি দেশগুলোর মধ্যে চলমান বিবাদ ‘বহুদূর গড়িয়েছে।’ তিনি তার মধ্যপ্রাচ্য সফরে এই বিবাদের অবসান ঘটাতে চান। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, কাতার ও সৌদি আরব, দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। অথচ কাতারের ওপর সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশের অবরোধের ১৯তম মাস চলছে এখন।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে সবরকম কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে। তাদের অভিযোগ, দোহা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে সহযোগিতা করছে। জবাবে কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এই বর্জনের সিদ্ধান্ত দেশটির সার্বভৌমত্ব খর্ব করার চেষ্টা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন দেশগুলোকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে সে অবস্থা থেকে কিছুটা সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন দেশটি চায় বিরোধের মীমাংসা করে একটি ঐক্যবদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য দেখতে, যাতে তারা এক সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।
রবিবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারের রাজধানী দোহাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর যে অবরোধ ঘোষণা করে রেখেছে, তাতে সুবিধা পাচ্ছে তাদের শত্রুই। তার ভাষ্য, ‘তখন আমরা সবাই শক্তিশালী হই, যখন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং আমাদের মধ্যে কোনও বিবাদ না থাকে। যেখানে আমাদের যৌথ স্বার্থ রয়েছে সেখানে বিবাদ বাড়ানো কোনও পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’ এসময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুররাহমান বিন জাসিম আল থানি।
আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখাটা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে প্রতিরোধ করতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, বিবাদ মীমাংসা করে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ে ন্যাটোর মতো একটি জোট গঠন করা হবে, যাতে সদস্য হিসেবে বিবাদমান দুই পক্ষের দেশগুলোর পাশাপাশি থাকবে জর্ডানও। এই জোটের নাম ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স অব দ্য মিডিল ইস্ট’ (মেসা)।
পম্পেও তার এই মধ্যপ্রাচ্য সফরে কাতারে দোহায় গেছেন আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে। দোহা থেকে তার যাওয়ার কথা রিয়াদে। সেখানে তার দেখা হবে সৌদি যুবরাজ মহাম্মদ বিন সালমানের, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা যাকে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার আদেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।








