কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অন্তত ৩৬ জন কর্মীর মোবাইল ফোন হ্যাক করা হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এসএসও গ্রুপের একটি স্পাইওয়্যার দিয়ে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর সিটিজেন ল্যাব প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই হ্যাকিংয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া ৩৬ জনের মধ্যে আল জাজিরার কর্মী, টিভি উপস্থাপক ও নির্বাহী কর্মকর্তারা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন অপারেটিং সিস্টেমের একটি দুর্বলতা কাজে লাগাতে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।
এনএসও গ্রুপ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এমন অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই।
সিটিজেন ল্যাব’র গবেষকরা জানান, আল জাজিরার সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে নজরদারি চালানো দুই হামলাকারী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের হয়ে কাজ করছিল বলে তাদের মোটামুটি আত্মবিশ্বাস রয়েছে।
গবেষকরা লিখেছেন, কিসমেট নামের একটি এক্সপ্লয়েট চেইনকে ব্যবহার করে মোবাইল ফোনগুলো হ্যাক করা হয়েছে।
২০২০ সালের জুলাই মাসে কিসমেট ছিল জিরো-ডে অ্যাটাক। এর অর্থ হলো, এই ত্রুটি সম্পর্কে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল অবগত ছিল না। ওই সময় আইফোনের সর্বশেষ মডেল আইফোন ১১ এবং আইওএস ১৩.৫.১ সংস্করণ হ্যাক করতে পারত।
সিটিজেন ল্যাব এই হ্যাকিংয়ের বিষয়ে প্রথম সচেতন হয় আল জাজিরার অনুসন্ধানী চলচ্চিত্র নির্মার্তা তেমের আলমিশাল যোগাযোগ করার পর। আলমিশালের আশঙ্কা ছিল তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তার গতিবিধিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি সিটিজেন ল্যাবকে তার মোবাইলের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার সুযোগ দেন। এতেই এতে এনএসও গ্রুপের পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।







