পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা থেকে নারীদের অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিল অনুমোদন করেছে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকার। রবিববার সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা রক্ষা নামের খসড়া বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমদিনেজাদের প্রশাসনের সময়কাল থেকেই বিলটি তৈরির চেষ্টা চলছিলো। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিলটি এখন পার্লামেন্ট পর্যালোচনার পর অনুমোদন দেবে। পরে সেটি পাঠানো হবে দেশটির সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাধর ভেটিং প্রশাসন গার্ডিয়ান কাউন্সিলের কাছে। বিচারক এবং ধর্ম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই কাউন্সিল তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রিসভায় বিলটি অনুমোদনের প্রশংসা করেছেন রুহানি প্রশাসনের সবচেয়ে সিনিয়র নারী মাসুমা এবতেকার। নারী ও পরিবার বিষয়ক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন শত শত আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক, নির্বাহী এবং কর্মকর্তার শত শত ঘণ্টার পরিশ্রমের ফসল এই বিল। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন ৫৮টি ধারার এই বিলটি ইরানি নারীদের ধৈর্য্য এবং যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটাবে।
বিলটি বিচার বিভাগের দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষ হয় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। এই বিলে সহিংতার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লৈঙ্গিক অবস্থানের কারণে নারীর শারিরীক, মানসিক, ব্যক্তিত্ব এবং মর্যাদার ক্ষতিকারক কোনও আচরণ এবং তাদের আইনগত অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য বঞ্চনাকর বা বাধানিষেধ সহিংসতা বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তার জন্য বিচার বিভাগে একটি কার্যালয় স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে বিলটিতে।
এছাড়া বিলটিতে শিক্ষার্থীদের লৈঙ্গিক শিক্ষা প্রদানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং কারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা বাড়াতে বলা হয়েছে।
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বিলটিতে বেশকিছু ইতিবাচক ধারা যুক্ত রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ভূমিকা রাখার তাগিদ দেওয়ারও প্রশংসা করে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপটি। তারপরও বিলটি আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করে উঠতে পারেনি। কারণ হিসেবে তারা দাবি করেছে বিলটি লিঙ্গ ভিত্তিক কয়েক ধরনের সহিংসতা যেমন বৈবাহিক ধর্ষণ এবং বাল্য বিবাহকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনায় ইরানে ব্যাপক ক্ষোভের তৈরি হওয়ার পর বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। ২০১০ সালের মে মাসে ১৪ বছরের মেয়ে রোমিনা আশরাফিকে গলা কেটে হত্যা করে তার বাবা। সম্মানের জন্য হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা ইরানে সাড়া ফেলে দেয়। পরে ওই বাবাকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।








