ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানী সানা থেকে ১ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাতে হুথিদের জড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এক টেলিভিশন বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, তারা ইসরায়েলের দিকে ‘ব্যাপক পরিসরে’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ‘ফিলিস্তিনিদের বিজয় অর্জনে’ এই ধরনের আরও হামলা অব্যাহত রাখার আগাম ঘোষণাও দিয়েছে তারা।
সারি আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরুর পর এটি ইসরায়েলে হুথিদের তৃতীয় হামলা।
এর আগে, ১৯ ও ২৮ অক্টোবর ড্রোন হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে হুথিরা। এর মধ্যে, ২৮ অক্টোবরে হুথিদের ড্রোন হামলায় মিসরে বিস্ফোরণ ঘটে। এ জন্য অবশ্য হুথিদেরই দোষারোপ করেছিল ইসরায়েল। আর ১৯ অক্টোবর হুথিদের ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইয়াহিয়া সারির এমন বিবৃতি চলমান এই সংঘাতের আগুনে যেন আরও ঘি ঢেলেছে। ফলে চাপের মুখে পড়েছে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক অঞ্চলগুলো।
এদিকে, অধিকৃত গাজা উপত্যকায় হামাসকে ধ্বংস করার যে পণ ইসরায়েল নিয়েছে, তাতে হুথিদের জড়িয়ে পড়া সংঘাতময় পরিস্থিতিকে আরও বিধ্বংসী করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুথিদের এসব হামলা ‘অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হ্যানেগবি। তবে ইসরায়েল কীভাবে হুথিদের হামলার প্রতিক্রিয়া জানাবে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দিয়ে আসছে হুথিরা। হুথি ছাড়াও ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানাচ্ছে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা করছে ইরাকি মিলিশিয়ারা। আর লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিন বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা।








