উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরের কেন্দ্রস্থলে হামাসের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সেখানে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। সেগুলোকে লক্ষ্য করে ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট এবং বোমা হামলা চালিয়েছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এদিকে, গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে শহরটিতে কোনও অগ্রগতি করতে পারেনি সেনারা। ফিলিস্তিনি বাসিন্দা এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তবে আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে আশানুরূপ অগ্রগতি করতে পারেনি তারা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে নির্মূল করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সে লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি।
গাজা উপত্যকায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে হামাসের সশস্ত্র শাখা এবং তার মিত্র ইসলামিক জিহাদ। উভয় গোষ্ঠীই তাদের ভারী সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তবে গাজার নতুন যুদ্ধক্ষেত্র এখন রাফাহ শহর। প্রাথমিকভাবে শহরটির এসব সুড়ঙ্গই এখন ইসরায়েলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, ‘আমরা হামাসকে পরাজিত করছি।’ রাফাহতে আরও সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিলেন গ্যালান্ট।
এর প্রতিক্রিয়ায় হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি ‘সব উপায়ে’ তাদের জনগণকে রক্ষা করবে।
ইসরায়েল বলেছে, ৭ অক্টোবরের হামলার সময় অপহৃত হওয়া জিম্মিদের সঙ্গে হামাসের চারটি ব্যাটালিয়ন এখন রাফাহতে অবস্থান করছে। তবে এই শহরে হামলা পরিচালনা না করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল। সেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বেসামরিক আশ্রয় নিচ্ছেন।
ইসরায়েলকে রাফাহতে আক্রমণ বন্ধ করার আদেশ দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতকে আহ্বান জানিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছিল, যা অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজার ২৭২ জনে পৌঁছেছে।









